ফিরে দেখা ইতিহাস: স্বাধীনতা যুদ্ধে ড. ইউনুসের অবিস্মরণীয় ভূমিকা-১

লেখক: মো. কামাল উদ্দিন:

 

আমি আজ যার কথা লিখতে কলম ধরেছি, তাকে আপনি, আমি, আমরা সবাই চিনি। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনুস, একজন বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ, নোবেলজয়ী, এবং গ্যামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। আমি তার সাথে প্রথম দেখা করি নব্বই দশকে, যখন আমি বাংলাদেশ বেকার পুনর্বাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। ১৯৯৩ সালে, বেকারত্ব দূরীকরণে পরামর্শের জন্য, আমি তার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকার বাসায় সাক্ষাৎ করি। এরপরও বহুবার বিভিন্ন বিষয়ে তার সাথে আলাপের সুযোগ পেয়েছি, বিশেষ করে তার বক্তৃতা শোনার জন্য আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতাম।

চট্টগ্রামের এই কৃতি সন্তানকে নিয়ে আমরা সবসময়ই গর্ববোধ করি। তবে ড. ইউনুসের ব্যক্তিত্বের সম্পূর্ণতা বোঝা সহজ কাজ নয়। আমরা সাধারণত তার বিশ্বজোড়া খ্যাতি, নোবেল পুরস্কার এবং গ্যামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে জানি। কিন্তু তার জীবনের আরও অনেক অধ্যায়, বিশেষত স্বাধীনতা যুদ্ধে তার ভূমিকা, যা অনেকের অজানা। আজ আমি সেই অধ্যায়ের দিকে ফিরে তাকাতে চাই। ড. ইউনুস তার আত্মজীবনী “গ্রামীণ ব্যাংক ও আমার জীবন” গ্রন্থে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালের ঘটনা এবং বিশেষ করে আমেরিকাতে তার দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি সেখান থেকে কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি, যাতে পাঠকরা স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের কথা জানতে পারেন। আমরা ১৯৭০ সালে বিয়ে করে ন্যাশভিলের দক্ষিণে মারফ্রিসবরোতে বাস করতে শুরু করলাম। ওই সময় আমি মধ্য-টেনেসি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলাম। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল এবং সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে ফেরার পরিকল্পনা বানচাল হয়ে গেল। মুক্তিযুদ্ধের কাজে আমি নিজেকে সমর্পণ করলাম। অন্যান্য সব বাঙালির মতো আমার নজর ঢাকার দিকেই নিবদ্ধ ছিল। সেই ভয়ংকর দিনটিতে ঘরে ফিরে রেডিয়োতে খবর শুনলাম পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালিদের দমন করতে নেমে পড়েছে। বাঙালিদের নেতা শেখ মুজিবর রহমান পলাতক। পোশাক বদলানো মাথায় উঠল। আমি ছুটলাম ফোনের দিকে। ন্যাশভিলে ড. জিল্লুরের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁকে রেডিয়ো চালাতে বললাম। জানালাম তক্ষুনি তাঁর বাড়ি যেতে যাই। অন্য বাঙালিদেরও খবর দিতে অনুরোধ করলাম। ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যে জিল্লুরের বাড়ি পৌঁছে গেলাম। আমাকে নিয়ে বৃহত্তর ন্যাশভিলের পূর্ব পাকিস্তানের ছয় জন বাঙালি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আশু কর্তব্য স্থির করাই ছিল সবার উদ্দেশ্য। সমস্ত সূত্র থেকে আমরা খবর সংগ্রহ করলাম। জানা গেল পাকিস্তান সেনাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা বাঙালিদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়।

যতদূর সম্ভব খবর সংগ্রহ করতে শুরু করলাম। বিষাদে মন ভারাক্রান্ত হয়ে রইল। সমস্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সামগ্রিক অবস্থার কোনও স্পষ্ট চিত্র আমাদের সামনে ছিল না। আমাদের মধ্যে একজন ছিলেন, যিনি জামাতে ইসলামী সমর্থক, তিনি কেবলই বলতে লাগলেন, “আসল ঘটনা আমাদের সবারই অজানা। আরও বিস্তারিত খবরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করা উচিত।” আর সহ্য হল না আমার। বললাম, “যতটা দরকার তার বিস্তারিত বিবরণ আমরা সংগ্রহ করেছি। বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। এখন আমাদের স্থির করতে হবে আমরা নতুন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলাম কি না। আমি আমার সিদ্ধান্ত সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই। আমি নিজেকে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা দিলাম। কেউ ইচ্ছা করলে আমার সঙ্গে যোগ দিতে পারেন, যাঁরা বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মেলাবেন না তাঁরা আমার চোখে পাকিস্তানি, এক কথায় বাংলাদেশের শত্রু।”

চারিদিক নীরব। আমি যেভাবে সমর্থনের প্রশ্ন তুলেছি তাতে সবাই অবাক হয়ে গেছে। এইরকম অপ্রত্যাশিত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সকলেই বাংলাদেশের পক্ষ নিল। ‘বাংলাদেশ নাগরিক সমিতি’ গঠন করে তক্ষুনি ন্যাশভিলের সংবাদপত্রে ও টেলিভিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে সেকথা প্রচার করার প্রস্তাব দিলাম।

তিনটি বিষয় তখনই স্থির করা হল। (১) আমরা স্থানীয় টেলিভিশন কেন্দ্রের সাংবাদিক ও স্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে যোগাযোগ করব এবং বাংলাদেশের স্বার্থে তাদের সমর্থন চাইব।(২) আমরা প্রত্যেকে এক হাজার ডলার দিয়ে একটা তহবিল গঠন করব যাতে এখানকার কাজের খরচ চালিয়ে নেওয়া যায়। (৩) বাংলাদেশ স্বাধীন না হওয়া অবধি আমাদের বেতনের দশ শতাংশ আমরা ওই তহবিলে জমা দেব। প্রয়োজনে সাহায্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করব। প্রত্যেকে চেক বই বার করে লিখতে উদ্যত হলেন। যাঁদের কাছে চেক বই ছিল না তাঁরা অন্যের কাছ থেকে ধার করলেন।

পরের দিন অর্থাৎ ২৭ মার্চ আমরা স্থানীয় টেলিভিশন কেন্দ্র ও দৈনিক সংবাদপত্রের সাংবাদিক বৈঠক ডাকলাম। আমি ‘বাংলাদেশ নাগরিক সমিতি’-র সচিব ও দলের মুখপাত্র

নির্বাচিত হলাম। স্থানীয় টেলিভিশন কেন্দ্র আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে খবর পরিবেশনের সুযোগ পায় না। তারা আমাদের প্রতিবেদন উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করল। আমরা তাদের কাছে হয়ে উঠলাম তাজা আন্তর্জাতিক খবর সরবরাহকারী, যে খবরের সঙ্গে আবার স্থানীয় কিছু মানুষজন জড়িত আছেন। আমি ছিলাম

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বাকি পাঁচজন সকলেই শহরের হাসপাতালের ডাক্তার। আমরা সবাই একযোগে নিজেদের এমন একটি দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের ঘোষণা করছি যার এখনও জন্মই হয়নি। কী রোমাঞ্চকর সংবাদ। সংবাদপত্রগুলির পক্ষ থেকে আমাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হল। ছবি ছাপা হল। সেদিন বিকেলে আমরা আবার সমবেত হলাম জিল্লুরের বাড়িতে টি ভি-তে সান্ধ্য খবর শোনবার জন্য। আমাদের আন্দাজ ঠিক প্রমাণিত হয়েছিল-আমাদের খবর খুবই গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছিল। স্থানীয় সংবাদে আমার একটি সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার নেওয়া হল। আমায় প্রশ্ন করা হয়েছিল “টেনেসীবাসীদের জন্য আপনার কোনও বার্তা আছে কি?” “হ্যাঁ, অবশ্যই আছে,” আমি উত্তর দিলাম। “দয়া করে আপনাদের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের সদস্যদের অনুরোধ করে বার্তা পাঠান যাতে অবিলম্বে পাকিস্তানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা হয়। আপনাদের পাঠানো অস্ত্রশস্ত্র নির্দোষ নিরস্ত্র বাংলাদেশের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশের এই নির্দয় গণহত্যা বন্ধ করতে পাকিস্তান সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য আপনাদের প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানান।”খানিকটা আশ্বস্ত হলাম। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিছু অন্তত কাজ করতে পেরেছি। আমাদের দলের ছ’ জনের দৃষ্টিভঙ্গি ও আর্থসামাজিক অবস্থা আলাদা হলেও একটি ব্যাপারে আমাদের মতপার্থক্য নেই। এটা ভেবেও খুব আনন্দ হল। আমাদের এবার কাজ হল আমেরিকাবাসী অন্য বাঙালিদের প্রতিক্রিয়া জানতে সচেষ্ট হওয়া। আমরা ঠিক করলাম পাকিস্তান দূতাবাসের বাঙালি কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করব। কেউ তেমন পরিচিত ছিলেন না। কে যেন বলল, এনায়েত করিম নামের এক বাঙালি পাকিস্তান দূতাবাসের দ্বিতীয় প্রধান পদের অধিকর্তা। তাঁকে ফোন করলাম। তিনি আমাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর দিলেন। ২৯ মার্চ তারিখে রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ হবে-পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্বিচারে অসামরিক নাগরিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। আমাদেরও তাতে যোগ দিতে এনায়েত করিম অনুরোধ জানালেন। তিনি বললেন, বাঙালির সবচেয়ে বড় দলটি আসবে নিউ ইয়র্ক থেকে। এখানেই সর্বাধিক বাঙালির বাস।

ফোনে কথা হবার পর বিক্ষোভ সমাবেশ সম্বন্ধে আলোচনায় বসলাম আমরা। আমাদের

ডাক্তার বন্ধুরা হাসপাতাল থেকে ছুটি পাবেন না। আমি তাদের জানালাম আমি প্রস্তুত আছি। কালই আমি রওনা হব। ঠিক হল, আমি যাব সম্পূর্ণ নিজের খরচে। আমাদের চাঁদা তুলে সংগৃহীত ছয় হাজার ডলার আমাকে দেওয়া হবে, ওয়াশিংটনে তেমন প্রয়োজনে ব্যয় করার জন্য।

কিন্তু ওয়াশিংটনে আমি থাকব কোথায়? কাউকে চিনি না। এনায়েত করিম যথেষ্ট বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ, তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে দোষ কি? আবার তাঁকে ফোন করলাম। জানতে চাইলাম কাল আমি তাঁর অতিথি হতে চাইলে কোনও অসুবিধা হবে কিনা? তিনি দ্বিরুক্তি করলেন না। বললেন, “চলে আসুন।”

তাঁর উদারতা আমায় অভিভূত করল। আমি সম্পূর্ণ অপরিচিত তাঁর কাছে। আসলে সংকট আমাদের সব বাঙালিকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। হঠাৎ করে আমরা এক বিশাল পরিবারভুক্ত হয়ে গেলাম। ড. জিল্লুরের বিরাট শর্ট ওয়েভ রেডিয়োতে আমরা মধ্যরাত পর্যন্ত বিশ্বের সব বেতার

কেন্দ্র শোনবার চেষ্টা করলাম। কৌশল করে নানা কেন্দ্র ধরে বিচিত্র ভাষায় প্রচারিত সংবাদের অর্থ উদ্ধার করার চেষ্টা চলতে লাগল। ড. জিল্লুরের আমেরিকান স্ত্রী মাঝে মাঝেই রকমারি সুস্বাদু নাস্তা পরিবেশন করছিলেন। শেখ মুজিবের ভাগ্যে কী ঘটতে পারে এই নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন মতামত দিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত খবরে শুনলাম শেখ সাহেব চট্টগ্রাম

রেলস্টেশনে সেনাবাহিনীর কাছে ধরা পড়েছেন। (যদিও আসলে তাঁকে ঢাকায় তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।) আমাদের সবার চোখে পানি এল। তিনি যুদ্ধে জাতীয় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এ বিষয় নানারকম দৃশ্যপট কল্পনা করে আমরা এ যাবৎ ভরসা পেতাম। বেতারে তাঁর সরাসরি কণ্ঠস্বর সমগ্র জাতিকে উদ্বুদ্ধ করত। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের সম্ভারও তাঁর কণ্ঠস্বরকে নীরব করতে পারেনি।

এমন অবস্থায় পাকিস্তানি সৈন্য তাঁকে নিয়ে কী করতে পারে? তাঁকে কি ঢাকায় ফিরিয়ে এনে গুলি করে মারা হবে? ফাঁসি দেওয়া হবে? অত্যাচার হবে তাঁর ওপর? ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ। বিষাদে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে অসংখ্য অজানা প্রশ্ন নিয়ে আমি ভোরবেলা ওয়াশিংটন ডি.সি.-র উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। দুপুর নাগাদ এনায়েত করিম সাহেবের বাড়ি পৌঁছে গেলাম। ছবির মতো বাড়ি। আমাকে পেয়ে পরিবারের সবাই খুবই খুশি। মিসেস করিম তক্ষুনি টেবিলে খাবার সাজাতে লেগে গেলেন। কথায় কথায় জানা গেল আমরা দুজনেই চট্টগ্রামের মানুষ। আমাদের সম্পর্কে বন্ধুত্বের ছোঁয়া লাগল। তাঁদের পরিবারের একজন হয়ে উঠতে বেশি সময় লাগল না আমার। সরকারি কর্মচারীরা কখনও মন খুলে মিশতে পারেন না-এই ধারণা আশ্চর্যজনক ভাবে বদলে গেল তাঁকে দেখে। এবার দ্বিতীয়বার অবাক হবার পালা। মতবিনিময়ের সময় সবার কথার দাম দেওয়া হচ্ছে। সমানে ফোন আসছিল। পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন পাকিস্তানি দূতাবাসের বাঙালি কর্মকর্তারা ফোন করে ওয়াশিংটনে তাঁদের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, নীতি নির্ধারণের উপদেশের আশায়। বিভিন্ন মানুষ নানা প্রশ্ন ও তথ্য সহ এসে হাজির হচ্ছিলেন। সারা বাড়ি ব্যস্ততায় সরগরম।

বাড়ির ভিতরকার পরিবেশ দেখে আমি আরও বিস্মিত, রোমাঞ্চিত অনুভব করলাম। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। আমরা সবাই স্বাধীন দেশের নাগরিক। কেউই পাকিস্তানের আধিপত্য স্বীকার করছিল না।

এইভাবে নেশা ধরানো স্বাধীনতার স্বপ্ন উপভোগ করতে করতে হঠাৎ দেখলাম একজন গভীর মনোযোগ দিয়ে কিছু লিখছেন। তাঁর পরিচয় জেনে নিলাম। তিনি ছিলেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের সহকারী স্থায়ী প্রতিনিধি জনাব এস.এ. করিম। সেদিন সকালেই নিউ ইয়র্ক থেকে এসেছেন। তাঁর লেখা সবাইকে পড়ে শোনাতে চাইলে সবাই নীরবে তাঁর চারপাশে জড়ো হল। তিনি পৃথিবীর সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উদ্দেশ্যে একটি আবেদনপত্র লিখেছেন, নির্বিচারে গণহত্যা বন্ধ করার জন্য পাকিস্তানকে বাধ্য করতে। শুনতে শুনতে লেখকের ভাব প্রকাশের দক্ষতার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জন্মাল।

ক্যাপিটল হিলে আগামীকালের বিক্ষোভ সমাবেশে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কী কী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, আমার ভূমিকা কী হবে-এইসব বিষয়ে খোঁজখবর নিলাম। ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’-কে কোনও ভাবে ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না এই ছিল পণ। টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে তুলে ধরার জন্য কেউ কি পোস্টার বা ফেস্টুন বানাচ্ছে? বাড়ির কেউ কিছু বলতে পারল না। আমারই উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করলাম। দোকানে গিয়ে রঙিন কাগজ, তুলি, পোস্টার কালার কিনে নিয়ে এলাম। তক্ষুনি বসে যতগুলো পারলাম ফেস্টুন বানিয়ে ফেললাম।আমাকে

এসব করতে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেলেন। সমবেত দর্শকের সপ্রশংস দৃষ্টি অনুভব করতে পারলাম। চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রাবস্থায় আমি পোস্টার লেখার কায়দা ভালভাবে আয়ত্ত করেছিলাম। সেদিন সেই দক্ষতা কাজে লেগে গেল। বিড়ির পেছনের ভাগকে তুলি হিসেবে ব্যবহার করে কলেজ জীবনে অনেক পোস্টার লিখেছি। শামসুল বারি এসে পৌঁছলেন। তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা পড়াতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলিতে দূর থেকে তাঁকে চিনতাম।

লেখকঃ সাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক ও মহাসচিব -চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম

[recent_tabs]