সংঘাতের রাজনীতির অবসান হোক! 

আমরা সংঘাতের রাজনীতি করতে চাইলে এই সংঘাতকে গৃহযুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারবো! এই সংঘাতের কোন শেষ নেই, ঘরে ঘরে, পাড়ায় পাড়ায়, অলিতে গলিতে এই সংঘাত সংঘর্ষ ছড়িয়ে দিতে পারবো, প্রতিবেশি ভারতও এর সাথে অনুঘটক হিসাবে ইন্দন ও যোগান দিতেই পারে! পরিণতি কী হবে সেটা কি একবার কল্পনা করে দেখুন, রাডারে কিছু কী ধরা পড়ছে?

ভারত সব সময় জামায়াত ও ধর্মীয় অন্য দল বা গোষ্ঠীকে নিজেদের জন্য বৈরী ও শত্রুভাবাপন্ন মনে করে। এখন তারা যখন রাজনীতি মূল ধারায় যুক্ত হয়ে গেছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, ভারত সেটাকে নিশ্চয় খুব ভালো চোখে দেখবে বা তারা হাতপা গুটিয়ে বসে থাকবে তা ভাবার মতো আহাম্মক কেউ কি আছে? এখন একটি বৃহৎ প্রতিবেশী হিসাবে ভারতকে চরম বৈরী ও অনিরাপদ শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নত না করে তাদেরকে একটি সৎ প্রতিবেশী সুলভ সুসম্পর্ক নির্মাণে আহ্বান জানিয়েছেন, জামায়ত চিনের সাথেও বৈঠকে সুসম্পর্ক তৈরিতে এক যোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে! আমেরিকার এবং ইউরোপীয় মিত্ররাও জামায়াতের এই দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য দারুণভাবে খুশি।

দল হিসাবে জামায়াত আওয়ামী লীগের হাতে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়নের শিকার, ( আমীর ও তার ছেলেও এই নিপীড়ন এরবাইরে ছিলেন না) এর প্রতিশোধ নিতে গেলে রক্ত গঙ্গা বয়ে দিতে হবে হয়তো কিন্তু এতে কি দেশ উদ্ধার হবে?

সব কিছুর আগে দেশ, কাজেই দল নয়, দেশের স্বার্থেই জামায়াত তাদের অবস্থান পরিস্কার করেছে। জামায়াতের রাজনীতি বুঝতে গেলে আরও ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা জরুরী!

দলীয় রাজনীতি যখন দেশ ও জনগণের স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে অন্ধের মতো চলতে শুরু করে, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, ইতিহাস ও বাস্তবতা বর্জিত কেবল আবেগ ও হীন দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থ চিন্তা কাজ করে তখন দেশ অন্ধকারের দিকে হাঁটতে থাকে! অবশ্যই আইনের আওতায় সকল অপরাধীদের বিচার করতেই হবে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার এক্তিয়ার কারও নেই। আসল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতেই হবে, না হলে ভবিষ্যতে আবারও আওয়ামী জাহেলিয়াত অন্য রূপে আবির্ভূত হতে সময় লাগবে না!

আসলে মাথামোটা আচরণ করে টিকে থাকা যাবে না। বুূ্দ্ধিভিত্তিক ও চিন্তাশীল নেতৃত্ব না হলে সব অর্জনই বেনোজলে ভেসে যাবে!  (এটি একটি পোস্টে মন্তব্য, তাই বক্তব্যটি কিছুটা খাপছাড়া লাগতে পারে। তবে জামায়াতের সংঘাত এড়ানোর কৌশলকে সাধুবাদ জানাই)

[recent_tabs]