“ভোরের পথে শীতার্তের আর্তনাদ” -মো. কামাল উদ্দিনঃ

শতায়ু অঙ্গনের ভোর শতায়ু অঙ্গনের সবুজ ছায়ায়,পাহাড়ের উঁচুতে হাঁটি প্রতিদিন।চট্টগ্রামের বুক জুড়ে কুয়াশার পর্দা, শীতের বাতাসে বাজে নিঃশব্দ সুর।বন্ধুরা আসে, হাসির আড্ডা জমে,আকাশ ছুঁয়ে যায় প্রার্থনার ধ্বনি।কিন্তু পায়ের নিচে ফুটপাতে পড়ে,এক অন্য সকাল, শীতের কঠিন ছায়া। কুকুরের পাশে শুয়ে থাকা মানুষ, তার চোখে জ্বলে এক নিভু নিভু আলো। খোলা আকাশের নিচে লড়াই করে, বুকভরা স্বপ্ন, উষ্ণতার আকুতি।আমরা হাঁটি পাহাড়ের পথে,ওরা হাঁটে জীবনের খাড়া ঢালে।শতায়ু অঙ্গনের আলোছায়ায়,মানবতার গল্প রয়ে যায় অপূর্ণ।

শীতের সকালে বাটালি হিলের শতায়ু অঙ্গনের পথ ধরে হাঁটার যে নেশা, তা যেন এক অদৃশ্য বাঁধনে বেঁধে রাখে আমাকে। দুই ঘণ্টা ধরে হাঁটাহাঁটি শেষে ব্যায়াম করা যেন শরীরের প্রতিটি কোষে প্রাণ ফিরিয়ে দেয়। শীতের কামড়ে গা শিউরে ওঠে, তবুও ভোরের আলোআঁধারি পথে পাহাড়ের উচ্চতায় পা ফেলি, কারণ এই পথ আমার মনে একধরনের প্রশান্তির বার্তা দেয়। শতায়ু অঙ্গনের সবুজ বেষ্টনীতে বন্ধুদের সাথে না মিললে যেন সকালটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দিনের শুরুটাই ঠিক জমে না, যদি বাটালি হিলের শীর্ষে দাঁড়িয়ে পুরো চট্টগ্রাম শহরটাকে কুয়াশার চাদরে মুড়ে থাকতে না দেখি। যতদিনই হোক, পরিচিত-অপরিচিত মানুষের আনাগোনা সেই একইরকম থাকে। এখন তো নারীরাও নিয়মিত হাঁটতে আসে, কখনোবা বিদেশিনীরাও চোখে পড়ে। সেদিন আফগানিস্তানের কয়েকজন তরুণীকে দেখলাম, শীতের সকালেও তার ব্যায়ামে কোনো ক্লান্তি নেই। আর শাহিনা, ফিলিপাইন থেকে আসা সেই মেয়েটি, প্রতিদিনই আসে—একদিনও বাদ দেয় না। তার শরীরচর্চা যেন কোনো শিল্পীর নিখুঁত তুলির আঁচড়ের মতো।

তবে সবকিছুর মাঝে হঠাৎ থমকে দাঁড়াই—যখন ফুটপাতে রাতযাপন করা মানুষগুলোর দিকে চোখ যায়। শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে, কুকুরের পাশে শুয়ে থাকা সেই মানুষগুলোর আর্তনাদ আমার মনকে দগ্ধ করে। আমরা যখন উষ্ণ বিছানায় আয়েশি ঘুমে বিভোর থাকি, তখন তারা খালি গায়ে শীতের রাত কাটায়। এই মানুষগুলো কি আমাদের সমাজের বাইরের কেউ? তারা কি নাগরিক অধিকার থেকে এতটাই বঞ্চিত, যে শীতের প্রতিটি রাত তাদের জন্য যন্ত্রণার আরেকটি নাম হয়ে ওঠে? বিশেষ করে শিশু আর নারীরা—তাদের রাতগুলো কেমন কাটে? আমাদের কি এক মুহূর্তও তাদের কথা ভাবার সময় হয় না? প্রতিটি শীতের সকালে যখন আমি শতায়ু অঙ্গনে হাঁটতে যাই, সেই ফুটপাতবাসীদের দৃষ্টিতে আমার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। তবুও মনে হয়, আমি যেন তাদের প্রতি দায়বদ্ধ। শীতের তীব্রতায় যে শিশুটি মায়ের আঁচলে জড়িয়ে থাকে, তার নিঃশ্বাস যেন আমার শিরা-উপশিরায় বাজে।

আমাদের সমাজ কি সত্যিই এতটাই নির্দয় হয়ে গেছে, যে আমরা তাদের দুঃখ দেখেও না দেখার ভান করি? যদি সকলে মিলে একটু ভাবি, একটু এগিয়ে আসি, তাহলে হয়তো শীতার্ত মানুষগুলোর রাতগুলো এতটা দীর্ঘ আর যন্ত্রণাময় হবে না।ভোরের পথে প্রতিটি পায়ে পায়ে আমি যেন শপথ করি—একটু উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার। কারণ শীত শুধু প্রকৃতির নয়, শীত আসলে মানবতারও এক পরীক্ষা।

Previous article
Next article
চন্দনাইশ বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শত বর্ষ অনুষ্ঠানে কর্ণেল অলি শিক্ষার্থীদের মানুষ গড়ার কাজে সময় দেয়ার আহবান শিক্ষকদের স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : এলডিপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, মানুষের মনুষ্যত্ব, নীতি নৈতিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রদের সঠিকভাবে লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে রাজনীতিতে আসার আহবান জানান। শিক্ষকদের রাজনীতির সাথে জড়িত না হয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষ গড়ার কাজে সময় দেয়ার জন্য বলেছেন তিনি। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ ছিল। তিনিই প্রথম সেনাবাহিনী থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। শহীদ জিয়াকে রেডিওতে নিয়ে গিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ২৪ বছর ক্ষমতা থেকে ৩ বার মন্ত্রী হয়েছেন, ৬ বার এমপি হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। চন্দনাইশে বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করে অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন। সুযোগ ছিল বলে কাজ করেছি। পুনরায় সুযোগ দিলে আপনাদের জন্য কাজ করে যাবো। ভূলভ্রান্তি থাকতে পারে। সেজন্য অনুতপ্ত। ৬৩ বছর বয়সে লন্ডনে পিএইচডি করি, শিক্ষার জন্য কোন বয়স লাগে না। ১৫ বছরে দেশের সম্পদ লুন্ঠন করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে ফ্যাসিস্ট সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সাবেক মন্ত্রী জাবেদ লন্ডনে ৮৩২টি বাড়ি করেছে। যেগুলো ঘুরে ঘুরে দেখলে নিজেই হার্ট এটাক করে মারা যাবে। দেশকে সংস্কার করতে সময় লাগবে। ডলারের হাহাকার, ব্যাংক থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে পারছে না। আমার জন্য অনেকে রোজা রাখে, দোয়া করে। এক পর্যায়ে তিনি ছাত্র জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে তার শিক্ষকদের কথা তুলে ধরেন। স্কুল কলেজ হচ্ছে, কিন্তু সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা, দেশ ঠিক রাখতে হলে ভালো মানুষ গড়ে তুলতে হবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে দেশকে সংস্কার করতে হবে। এজন্য ড. ইউনুসকে সময় দিতে হবে। তিনি নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়ে তার ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুককে প্রার্থী করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তার ছেলে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে একটি বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সে জনগণের টাকা নষ্ট করবে না। গতকাল ২৮ ডিসেম্বর (শনিবার) সকালে ঐতিহ্যবাহী যাত্রা মোহন সেন পরিবারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপজেলার বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের মিলনমেলায় এসব কথা বলেছেন তিনি। প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব মো. আবদুল আলীম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে বরমা ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল গফুর খান, অধ্যক্ষ নুরুল আবছার, ডা. মঈনুদ্দিন চৌধুরী, আবদুল আহাদ পিএসসি, প্রধান শিক্ষক এএইচএম ছৈয়দ হোসেন, শিক্ষক যথাক্রমে স্বপ্না ভট্টাচার্য্য, জাহানারা বেগম, রেহেনা আকতার কাজেমী, মহিউদ্দীন ওসমান গণি, কামরুন নাহার, বলরাম চক্রবর্ত্তী, ছৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. জোবায়ের, স্মৃতা চৌধুরী, কাজী মো. দেলোয়ার হোসেন, জোবাইর ছৈয়দ, মো. আমির হোসেন, এড. অঞ্জন প্রসাদ, মোঃ নাসির উদ্দিন, মোঃ আবু জাফর, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, এস এম সেলিম, সাংবাদিক শিবলী সাদেক কপিল, মাষ্টার রুপন পাল, সাংবাদিক আছহাব উদ্দিন হিরো, এমাদ হোসেন সুজন, মোঃ রহিম উদ্দিন, সৌরভ দাশ, এড. রণি কান্তি বড়ুয়া, ইমন উদ্দিন মানিক প্রমূখ। অনুষ্ঠানে যাত্রা মোহন সেন গুপ্ত, প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম, শহীদ আবদুস ছবুর খাঁনকে মরণত্তোর সম্মাননা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক, শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. বিপ্লব গাঙ্গুলী, দক্ষিণ জেলা এলডিপি’র সভাপতি এয়াকুব আলী, উপজেলা এলডিপি’র সভাপতি মোতাহের মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আকতার আলম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বাদশা, এলডিপি নেতা আইনুল কবির।
[recent_tabs]