চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী পানি শোধনাগারের তৃতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ‘কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩’ নামের এ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার এক অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন সরফভাটা এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। একই এলাকায় বর্তমানে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২-এর কার্যক্রম রয়েছে। নতুন প্রকল্পের জন্য জাইকার একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সম্ভাব্য এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু হয়েছে।
নতুন শোধনাগারটির অন্যতম সুবিধা হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্পের পানি নগরীতে সরবরাহের জন্য আলাদা পাইপলাইন নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। প্রকল্প-২-এর বিদ্যমান পাইপলাইন ব্যবহার করেই শোধিত পানি চট্টগ্রাম নগরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এর আগে ২০১৬ সালে রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা এলাকায় কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ বাস্তবায়নে অর্থায়ন করেছিল জাইকা। প্রকল্পটির দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা ৩ হাজার ৬২৩ কোটি ২৮ লাখ, বাংলাদেশ সরকার ৮৪৪ কোটি ৮০ লাখ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করে।
২০২১ সালের ১৬ মার্চ থেকে প্রকল্প-২-এর মাধ্যমে কর্ণফুলী নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে। নাসিরাবাদে রিজার্ভার ও হালিশহরে এলিভেটেড ট্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পানি পৌঁছে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-১-ও রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত। প্রকল্প-১-এর পানি পোমরা এলাকা থেকে এবং প্রকল্প-২-এর পানি সরফভাটা এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্প-৩-এর জন্যও সরফভাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে পানি উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতি/
