, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

শাহ আমানত বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব করার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের সঙ্গে আকাশ যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রায় দেড় বছর মেয়াদি একটি ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব প্রজেক্ট’ নামে প্রস্তাবিত উদ্যোগটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় ও পরিধি সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের পর নির্ধারিত হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বিমানবন্দরের রানওয়ে ও এয়ারসাইড অবকাঠামো উন্নয়ন, বড় উড়োজাহাজের জন্য পার্কিং সুবিধা, যাত্রী টার্মিনাল সম্প্রসারণ, আধুনিক কার্গো সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য পৃথক অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

এডিবির অর্থায়ন চাওয়া হয়েছে

প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তা চেয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি এডিবির Integrated Growth Network Development উদ্যোগের আওতায় নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

ইআরডি ইতোমধ্যে প্রকল্পটির একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (PDPP) তৈরি করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের জন্য পাঠিয়েছে।

প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার এবং সরকার ও বেবিচকের পক্ষ থেকে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও হসপিটালিটি অবকাঠামোয় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আরও ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে।

রানওয়ে ও বড় উড়োজাহাজের সুবিধা বাড়বে

বর্তমানে শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৪০ মিটার। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রানওয়ে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে ও দ্রুতগতির এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণের কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বড় উড়োজাহাজের জন্য ছয় থেকে আটটি নতুন পার্কিং স্ট্যান্ড তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে Boeing 777 ও 787 এবং Airbus A330 ও A350-এর মতো ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে।

এয়ারসাইড অবকাঠামো উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

বাড়বে যাত্রীসেবা সক্ষমতা

টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণ ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা বর্তমান প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনায় আরও চারটি বোর্ডিং ব্রিজ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এতে মোট বোর্ডিং ব্রিজের সংখ্যা ছয়ে উন্নীত হবে এবং বড় উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতাও বাড়বে। যাত্রী টার্মিনাল ও বোর্ডিং সুবিধা উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।,

ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য আলাদা কেন্দ্র

আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে বিমানবন্দরকে গড়ে তুলতে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি আঞ্চলিক যাত্রী ট্রানজিট কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।

এ কেন্দ্রে ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও ট্রানজিট লাউঞ্জ থাকবে। এর ফলে চট্টগ্রামকে শুধু যাত্রার গন্তব্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক রুটে সংযোগস্থল হিসেবেও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কার্গো সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা

প্রকল্পের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় নতুন কার্গো ভিলেজ, কোল্ড-চেইন সুবিধা ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস নির্মাণের কথা রয়েছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরের বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার টন। প্রস্তাবিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে তা ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কার্গো অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং ওয়াইড-বডি কার্গো উড়োজাহাজের জন্য অ্যাপ্রোন ও গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জামে আরও প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এর আগেও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এয়ার কার্গো অবকাঠামো আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক রুট, ট্রানজিট সুবিধা এবং কার্গো কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমান ও লজিস্টিকস সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত ব্যয়, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন কাঠামো এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত