, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 71%

কাপ্তাইয়ের আলোচিত হাসিনা হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে হাসিনা বেগম ওরফে সুমি হত্যা মামলায় মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল ওরফে মোহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যার পর রাঙুনিয়ার দুবাসী বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে কাপ্তাই নতুন বাজারে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন হাসিনা বেগম। পরদিন কাপ্তাই থানার চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই ইউনিয়নের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি আগুনে পোড়ানোর আলামতও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে ১৩ মার্চ কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে বাদীর আবেদনের পর মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি একই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে নতুন করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করেনি। আদালতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল ওরফে মোহিবুল্লাহকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায় বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, মোখতার আহমদ, সফিউল আলম মিয়া ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুম রহিম।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় পিপি প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের জন্য একটি বার্তা যাবে—অপরাধ করে কেউ আইনের আওতা এড়িয়ে যেতে পারবে না।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুম রহিম জানান, তারা এমন রায় প্রত্যাশা করেননি। রায়ের বিষয়ে আসামির সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রায়ে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত