
মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ (খাগড়াছড়ি থেকে):
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে আজ হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উদযাপনের লক্ষে র্যালী বের করা হয় এবং বিজয় ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিস মমতা আফরিনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, রামগড় পৌরসভা, বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতৃবৃন্দ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মানস চন্দ্র দাস, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার, রামগড় পৌরসভার প্যানেল মেয়র কণিকা বড়ুয়া ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য,১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১নং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং গেটওয়ে ছিল মহকুমা শহর রামগড়। দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে মিত্রবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনী রামগড় থেকে পলায়ন করে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জবানে জানা যায়, এ দিন রামগড় শহরের বিপরীতে ফেনী নদীর অপরপাড়ে ভারতের সাবরুম শহরে অবস্থানকারী মুক্তিকামি জনতা পাকিস্তানিদের কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে একটি অগ্রগামী দল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রামগড় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারে রামগড় শহরে পাকিস্তানীদের অবস্থান নেই। অগ্রগামী দলের সংকেত পেয়ে দলে দলে মুক্তি কামি জনতা স্বাধীন রামগড় শহরে আসতে থাকে। বিকেল বেলায় জনতা রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। শেষ বিকেলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা রামগড় প্রধান ডাকঘরের শীর্ষে লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে রামগড়কে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন।

