
প্রদীপ্ত রণন, পটিয়া প্রতিনিধিঃ
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শুরুতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী ( নৌকা প্রতীক ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ( ঈগল প্রতীক ) এর সমর্থকদের মধ্যে হামলা , নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর , গাড়ী ভাংচুরের মত ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পটিয়া ।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ,জাতীয় সংসদের হুইপ স্বতন্ত্র প্রার্থী( ঈগল প্রতীক ) সামশুল হক চৌধুরীর গণসংযোগের সময় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বুধপুরা বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। সামশুল হক চৌধুরীর সমর্থক নেতাকর্মীরা এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল হক চৌধুরী শারুন নিউজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বিকেল ৪টার দিকে সামশুল হক চৌধুরী শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বুধপুরা বাজারে তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর অতর্কিতে একটি মিছিল আসে। তাদের হাতে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। তারা গণসংযোগের বহরে থাকা ৭-৮টি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এছাড়া সামশুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত দুটি গাড়িও ভাঙচুর করে। এসময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অধিকাংশ গাড়ির চাকা পাঙচার করে দেয়। হামলার সময় নেতাকর্মীরা সামশুল হক চৌধুরীকে বাজারে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে রক্ষা করেন। সেই দোকান লক্ষ্য করেও হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।
শারুন নিউজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কাশিয়াইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাশেমের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সমর্থক।
তিনি আরো বলেন , প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন থেকে আমাদের ওপর হামলা হচ্ছে। জিরি ইউনিয়নে আমাদের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরা ইলেকট্রোরাল কমিটিকে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি।
হামলায় আহত এক যুবক নিউজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি সামশুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণায় এসেছি। কাশেম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। তারা ককটেল ফাটিয়ে প্রথমে ভীতির সঞ্চার করেছে। হামলার সময় মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর নামে এবং নৌকা নৌকা বলে স্লোগান দেয়।
এ বিষয়ে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর বক্তব্য জানার জন্য বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নিউজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে এমপি সামশুল সাহেব উনার বিরোধী নেতাকর্মীদের অনেকভাবে হয়রানি করেছেন। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হামলা বিরোধী নেতাকর্মীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।’
জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নিউজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ মহিবউল্লাহ, পটিয়ার ইউএনও, অ্যাডিশনাল এসপিসহ আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রার্থী এখান থেকে নিরাপদে চলে গেছেন। আমরা সার্বিক বিষয় তদন্ত করে দেখছি।
প্রচারণার প্রথম দিন মঙ্গলবার মনসা চৌমুহনীতে সামশুল হক চৌধুরীর ঈগল প্রতীকের ব্যানার-পোস্টার ছেঁড়া, উত্তর হরিণ খাইন বটতলা এলাকায় প্রচারণার গাড়ি ভাঙচুর ও চালককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু ।

