
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কোনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না- এমনকি কোনও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি হলেও তাকে ছাড় দেওয়া যাবে না। অপরাধী আমার দলের নেতা হলেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমার সঙ্গে যোগাযোগের সব ব্যবস্থা রয়েছে।’
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেছেন কিছু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকে। তারা রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটাতে চেষ্টা করে। আমার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকবে, কখনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না।’প্রধানমন্ত্রী পুলিশ প্রধানকে ভূমি দখলকারী, ছিনতাইকারী ও মাদকের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। অপরাধী যে হোক না কেন তাঁকে ছাড় দেবেনা, হত্যা, রাহাজানি, নারী ধর্ষণ, অপহরণকারি, বিশেষ করে দলের নেতা বা কর্মি হত্যাকারিকে আশ্রয় দেন না। হত্যাকারি যেই হোকনা কেন, যতবড় নেতা হোকনা কেন তাদেরকে৷ কোনোধরণের মাপ নেই, হত্যাকারিকে দলের পদপদবি ছাড়তে হয়, হত্যাকারি যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে নিঃ দোষ প্রমানিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত দলের কোনো ধরণের সুযোগ সুবিধা বা দলের পরিচয় দিয়ে চলতে পারবেনা, তা আমার কথা নয়, সেই কথা গুলো মানবতার মা খ্যাত বিশ্ব নেত্রী বঙ্গবন্ধু সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিস্কারভাবে ঘোষণা দিয়েছেন কোনো হত্যাকারি দলের দায়িত্বে থাকতে পারবেনা, সেই খানে চট্টগ্রামের আলোচিত-সমালোচিত বহু অপরাধের অপরাধী সুনির্দিষ্ট হত্যা কান্ডের আসামি দলের যুব লীগের কর্মিকে প্রকাশ্য হত্যার মুল নায়ক হাজী ইকবাল কিভাবেই বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় পরিষদের দায়িত্বে থাকেন এবং বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগকে কেন্দ্রীয় সভাপতির সাথে মিলামিশা করেন বা তার কথামতো চট্টগ্রাম মহানগরে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের নামসর্বস্ব কাগজের কমিটি অনুমোদনদেন তা আজ বিবেচনা করার সময় এসেছে। বঙ্গবন্ধু নামে সংগঠনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে একজন একাধিক অপরাধের অপরাধী সুনির্দিষ্ট যুবলীগ নেতার হত্যাকারিকে কিভাবেই বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের দায়িত্ব দিয়েছেন তার সুরাহা চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন চট্টগ্রামেে হাজারো বঙ্গবন্ধুর সৈনিক লীগের নেতাও কর্মিগণ। বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ একটি আদর্শবান সংগঠন, যেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর নিবেদিত প্রাণ শেখ হাসিনার আস্হাবাজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান, তারই হাতের সংগঠনে আজ বিভিন্ন অপরাধীরা গুরুত্বপূর্ণ পদপদবি নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত হয়ে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগকে কলংকিত খেলায় নেমেছেন। যা অপ্রীয় হলেও সত্যি। তাই আজকে এই হাজী ইকবাল ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের উপর বিগত সময়ের প্রকাশিত সংবাদ সমূহ তুলে ধরছি।
১-বিচারকের ওপর হামলা, হাজী ইকবালের ছেলের ৫ বছরের সাজা
নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় চট্টগ্রামের ৫ম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবালের ছেলে আলী আকবরকে ৫ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আলী আকবর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) শাহাবুদ্দিন আহমদ সিভয়েসকে বলেন, ‘বিচারকের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় মোট দুইজনকে আসামি করা হয়েছিল এবং পুলিশ দুইজনকে আসামি করে চার্জশিটও দিয়েছিল। তবে আজকে শুনানি শেষে আদালত শুধু হাজী ইকবালের ছেলে আলী আকবরকে ৫ বছরের সাজা দিয়েছেন। আলী আকবরের সহযোগী অপর আসামি আলী হোসেন জিসানকে আদালত মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন।’
গত ২১ ডিসেম্বর আলী আকবর ও তার সহযোগী আলী হোসেন জিসানকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন পতেঙ্গা মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী। মাত্র ১২ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা এ চার্জশিটটি দাখিল করেছিলেন।
গত ৯ ডিসেম্বর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে উল্টো পথে মটরসাইকেল চালানোর প্রতিবাদ করায় চট্টগ্রামের ৫ম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জহির হোসেনের ওপর হামলা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংঘটিত ওই ঘটনায় আলী আকবর এবং তার সহযোগী হাসান আলী জিসানকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। এদের মধ্যে আলী আকবর যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন হত্যা মামলার আসামি। তার বাবা হাজী ইকবালও একই মামলার আসামি। বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইকবালকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ১০ বছর আগে বহিষ্কার করা হয়। তবে এলাকায় তিনি এখনো আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেন। জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত আলী আকবর ও খালাসপ্রাপ্ত তার সহযোগী আউটার রিং রোডে উল্টো পথে সেদিন মটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় জজ সাহেব ওই পথ দিয়ে গাড়ি নিয়ে অন্যত্র যাচ্ছিলেন। মটরসাইকেল তার গাড়ির সামনে পড়লে তিনি উল্টো পথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিষয়ে জানতে চান। এসময় তারা বিচারক ও গাড়ীতে হামলা চালায়। হামলায় ট্টগ্রামের পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ জহির উদ্দিন হাতে ব্যথা পান। আদালত সূত্র জানায়, বিচারক জহির হোসেনের গাড়িচালক রাজু শেখ বাদি হয়েই তখন আলী আকবর ও আলী হোসেন জিসানের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার পরবর্তী আদালতের আদেশে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। বিচারকের ওপর হামলা, মামলা দায়ের, তদন্ত, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং সর্বশেষ রায় দান সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে খুব দ্রুততার সাথে। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে মাত্র দু’মাস। -সিভয়েস/এসএইচ ২/চট্টগ্রামে যুবলীগ কর্মী হত্যার অভিযোগে ১৭ আওয়ামী নেতার বিরুদ্ধে মামলা বুধবার ২৮ মার্চ ২০১৮ প্রিন্ট সংস্করণ চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর সল্টগোলা এলাকায় যুবলীগকর্মী মো. মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগনেতা হাজী ইকবাল ও তার ভাইসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহত মহিউদ্দিনের মা নুর নেছার বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।সিএমপি বন্দর থানার ওসি (তদন্ত) বিকাশ সরকার জানান, যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগনেতা হাজী ইকবাল ও তার ভাইসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে তানভীর ও মুছা নামে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকাল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর সল্টগোলা ক্রসিংয়ের মেহের আফজাল উচ্চ বিদ্যালয়ে মো. মহিউদ্দিন (৩০) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। মহিউদ্দিন দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর এলাকার আবু ইব্রাহিমের পুত্র ও যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, মেহের আফজল স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী নিয়ে দুপুরে স্কুলে বৈঠক ছিল। সেখানে যোগ দিতে গিয়েছিল মহিউদ্দিন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের হাজী ইকবালের অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। মহিউদ্দিনের মা নুর নেছার বেগম জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে মহিউদ্দিন ছোটের সল্ট গোলা ক্রসিং এলাকায় তার একটি মোবাইল ফ্লেক্সি লোডের দোকান আছে। মহিউদ্দিনের চার বছর বয়েসী একটি ছেলে আছে । সকাল ১০টার দিকে এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিল মহিউদ্দিন। দুপুরে সে মেহের আফজল স্কুলে গিয়েছিল। প্রতিবেশী এক যুবক বেলা আড়াইটার দিকে মহিউদ্দিনকে কোপানোর খবর দিলে সবাই বাসা থেকে স্কুলে যায়। নিহতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনার জন্য হাজী ইকবালকে দায়ী করেছেন। নিহতের ভাই আবু ইউসুফ বলেন, আগে মহিউদ্দিনের সাথে হাজী ইকবালের সখ্যতা ছিল। কিন্তু হাজী ইকবালের বিভিন্ন কাজের জন্য তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। পক্ষ পরিবর্তন করায় হাজী ইকবালের নির্দেশে তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। স্থানীয়রা জানান, বছরখানেক আগে হাজী ইকবাল মেহের আফজল স্কুলের এক শিক্ষকে ছুরিকাঘাত করেছিল। সে সময় মহিউদ্দিন ওই স্কুল শিক্ষকের পক্ষ নেয়ায় হাজী ইকবালের সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়। সে বিরোধের জেরে মহিউদ্দিন খুন হয় বলে ধারণা স্থানীয়দের। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত জেলা পুলিশের এএসআই মো. আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, গুরুতর আহত এক যুবককে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই যুবকের মাথা, বুক, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।এক যুবকের লাশ উদ্ধারগতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের তামান্না আবাসিক এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, তামান্না আবাসিক এলাকার রাস্তার পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে মরদেহের এখনো পরিচয় পাওয়া যায়নি । যুবকের পরণে ছিল জিন্স প্যান্ট ও টি শার্ট।৭ জন হতাহতরেল পুলিশ সূত্রের খবর, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পটিয়া পৌরসভা সংলগ্ন রেললাইনের ওপর ইঞ্জিনচালিত ভটভটি আটকে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাঈনুদ্দীন জসীম (৩৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত জসীম উদ্দিন পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দখিল এলাকার আবুল কালাম মাস্টারের ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ভটভটি চালক মো. শাহেদ হোসেন। চমেক হাসপাতালে পুলিশের এএসআই মো. আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, পটিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত ভটভটির মালিক জসীম (৩৭) ও চালক শাহেদকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জসীমকে মৃত ঘোষণা করেন। ট্রেন আসার আগে ভটভটি গাড়িটি পার হতে গিয়ে, রেললাইনের ওপর আটকে যায়। এ সময় দোহাজারি থেকে চট্টগ্রামমুখী লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে শাহেদের চিকিৎসাসেবা চলছে এদিকে পুলিশ সূত্রের খবর, গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানার বালুছড়ার নতুনবাজার এলাকায় ট্রাক-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- রাউজানের হলুদিয়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মো. নান্টু (২৮), ফটিকছড়ির আজাদীয়া পাড়ার মো. বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (২২) ও মো. জাশেদ (৩০)। চমেক পুলিশের এএস আই মো. আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, নতুনবাজার এলাকায় ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নান্টু ও রাকিব নামে ২ যুবক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। পরে জাশেদ নামে আরেকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাটহাজারীগামী সিএনজি অটোরিকশার সাথে বিপরীতমুখী একটি পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা হয়েছে। এতে সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে মুছড়ে যায়। এ ঘটনায় সিএনজি চালকসহ আরও ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ৩/পদের অপব্যবহার করে পলাতক মাফিয়া হাজী ইকবালের বেনামি সম্পত্তি তার স্ত্রীর নামে করার অভিযোগে বরখাস্ত মির্জাপুর ইন্সপেক্টর এইদিন ওয়েবডেস্ক, সাহারানপুর,১৫ সেপ্টেম্বর : উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার মির্জাপুর থানার ইন্সপেক্টর নরেশ গৌতমের বিরুদ্ধে পদের অপব্যবহার করে খনি ব্যবসায়ী ও পলাতক মাফিয়া হাজী ইকবালের বেনামি সম্পত্তি তার স্ত্রীর নামে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে । নরেশ গৌতম গ্রামবাসীকে হুমকি দিয়ে কোটি টাকার জমির দলিল মাত্র কয়েক লাখ টাকায় হস্তান্তর করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ । প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পর্যায়ে এই বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে পৌঁছায় । এরপর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিনিয়র পুলিশ সুপার ডঃ ভিপিন টাডা এসপি ট্রাফিকের কাছে অভিযোগ তদন্ত হস্তান্তর করেন এবং মির্জাপুর ইন্সপেক্টরকে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় । অবশেষে তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমানিত হলে ইন্সপেক্টর নরেশ গৌতমকে সাসপেন্ড করার পর এসএসপি তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছেন গোটা ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসপি দেহাত সাগর জৈনকে। এখন এই মামলার তদন্তে যে তথ্য পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এসপি ।জানা গেছে,এই বিষয়টি মূলত শচীন নামে এক ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নজরে আনেন । দেবেন্দ্র শুক্লা নামে এক আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি লখনউয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পোর্টালে অভিযোগ করেন যে সাহারানপুর জেলার সিকান্দারপুরের বাসিন্দা এক ব্যক্তির ১.৬৪ হেক্টর জমি দখল করে নিয়েছে সাহারানপুরের একটি থানার ইনচার্জ, আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য । এই জমির মূল্য কোটি টাকা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এসও মাত্র ৪৮ লাখ টাকায় স্ত্রীর নামে এই জমির দলিল করেছেন । অভিযোগটি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসতেই এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশকে । এরপরেই নড়েচড়ে বসেন সিনিয়র পুলিশ সুপার ডক্টর ভিপিন টাডা ।৪/সেই আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলা
by জাতীয় ডেস্ক Published: 29 August 2017 Last Updated: 29 August 2017 ‘হায় মুজিব, হায় মুজিব’ বলে মাতম করে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল। শেষ রক্ষা হয়নি তার। এবার তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম
মহানগর হাকিম আবু সালেম মো.নোমানের আদালতে মঙ্গলবার মো.মহিউদ্দিন নামে বন্দর এলাকার এক ব্যক্তি বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালতও মামলা গ্রহণ করে ইতোমধ্যে এই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আশুরা দিবসের অনুকরণে মাতম করার কারণে হাজী ইকবালসহ মুরাদ আলী আকবর, মো.হারুন এবং নগরীর হালিশহরের বাসিন্দা মামুনর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ২৯৫ (ক), ২৯৮ ও ৩৪ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার আরজিতে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন করেন হাজী ইকবাল ও তার কর্মীরা। ওই মানববন্ধনে আশুরা দিবসের অনুকরণে ‘হায় মুজিব, হায় মুজিব’ মাতম করে নিজেদের শরীর রক্তাক্ত করেন তারা। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে সর্বস্তরের মানুষ এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান। এরপরই মূলত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মামলাটি দায়ের হলো।
৫/গাছরোপণের বাহানায় রিংরোডের ৪ কিলোমিটার হাজী ইকবালের দখলে প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই চট্টগ্রাম নগরীর আউটার রিং রোডের জায়গা দখলে নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল। ‘বৃক্ষরোপণের’ আড়ালে রাস্তার পাশের প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা তার আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ওই সড়কের আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি এবাদতখানা নির্মাণ করেছেন। সড়কের পাশে চার কিলোমিটার এলাকায় জুড়ে লাগিয়েছেন ২০০ চারা গাছ।
এলাকাবাসী বলছেন, তারা ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন ২০০ চারা গাছ লাগানো ওই বিশাল জায়গা হাজী ইকবালেরই দখলে চলে গেছে। যুবলীগ নেতা মো. মহিউদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাজী ইকবাল সম্প্রতি ওই মামলায় জামিনে এসেছেন।
এলাকাবাসী জানায়, হাজী ইকবাল সিডিএর আউটার রিং রোডের জায়গা দখলে নিয়ে এবাদতখানা তৈরি করার পর তার অনুসারীরা আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় দোকানপাট তৈরি করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ইটের বাউন্ডারি দিয়ে এবাদতখানা নির্মাণ করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল। চট্টগ্রাম নগরীতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আউটার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্প। এতে শহর রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীকেও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে চার লেনের এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত চলছে আউটার রিং রোড নির্মাণ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই বন্দর থানাধীন আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় চলছে সরকারি জায়গা দখলের মহোৎসব। বেড়িবাঁধের দুই পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট। বেড়িবাঁধের ওপরে উঠতেই চোখে পড়বে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা মাছের আড়তসহ বিভিন্ন দোকানপাট। বেড়িবাঁধ দিয়ে সাগরে নামতেই ব্লকের ওপর গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানপাট। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে, আউটার রিং রোড ও ব্লকের মাঝখানে ঢালু জায়গার ওপর ইটের বাউন্ডারি দিয়ে এবাদতখানা নির্মাণের নামে সরকারি জায়গা অবৈধ দখল করে নির্মাণাধীন আউটার রিং রোডকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছেন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন হত্যামামলার প্রধান আসামি হাজী ইকবাল। অবৈধ দখলের কারণে বর্তমান সরকারের চলমান প্রকল্পে আউটার রিং রোডের নির্মাণকাজও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হাজী ইকবাল চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি কোন জায়গা দখল করছি না। একটি জায়গা সমান করা হয়েছে এবাদতখানার জন্য। আপনি এসে দেখে যান আমি কোনো জায়গা দখল করেছি কিনা।’ করে দেশজুড়ে সমালোচিত হয়েছিলেন হাজী ইকবাল।
২০১৮ সালের ২৬ মার্চ নগরীর সল্টগোলা এলাকায় হালিশহর মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিসভা চলাকালে যুবলীগকর্মী মহিউদ্দিনকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য হাজী ইকবালকে দায়ী করছেন নিহতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় ওই বছরের ২২ জুলাই হাজী ইকবাল, তার ভাই, ছেলে, মেয়ে জামাইসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় বন্দর থানা পুলিশ। হাজী ইকবাল একসময় বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ১০ বছর আগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘হায় মুজিব হায় মুজিব’ মাতমে নিজের শরীর থেকে কথিত রক্ত ঝরানোর চেষ্টায় জিঞ্জির চাকু দিয়ে আঘাত করে শিয়াদের মতো মাতম করে সমা

