
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনির উপর আগ্রাসনে বোমা ও গুলিতে ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে লক্ষ লক্ষ নিরীহ নারী, শিশু ও পুরুষ। হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সংঘাতের বীজ বোনা হয়েছিল এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে।
১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব আর্থার বেলফোর ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের একজন সদস্য লিওনেল ওয়াল্টার রথচাইল্ডকে সম্বোধন করে একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিটি ছিল মাত্র ৬৭ শব্দের। কিন্তু এর তাৎপর্য এত বেশি তা এখনো ধারণ করতে হচ্ছে পৃথিবীকে। আর এই চিঠিটিই বেলফোর ঘোষণা নামে পরিচিত। সেসময় ফিলিস্তিনে আরব স্থানীয় জনসংখ্যা ছিল ৯০ শতাংশেরও বেশি।
ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে একটি ব্রিটিশ আদেশপত্র অথবা ম্যান্ডেট ১৯২৩ সালে তৈরি করা হয়েছিল। স্থায়ী হয়েছিল ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত। এ সময় ইহুদি অভিবাসনকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছিল ব্রিটিশরা। ইউরোপে নাৎসিবাদের অত্যাচার থেকে পালাতেও অনেকে ফিলিস্তিনে আশ্রয় নিয়েছিল।
১৯৩০-এর দশকে যা ঘটেছিল
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরববিদ্রোহের সূচনা করেছিল। স্থায়ী হয়েছিল ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত। ১৯৩৬ সালের এপ্রিলে নবগঠিত আরব জাতীয় কমিটি ফিলিস্তিনিদের ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ও ক্রমবর্ধমান ইহুদি অভিবাসনের প্রতিবাদে ট্যাক্স প্রদান বন্ধ ও ইহুদি পণ্য বয়কটের মাধ্যমে একটি সাধারণ ধর্মঘট শুরু করার আহ্বান জানায়। এ ধরনের ধর্মঘট ছয় মাস স্থায়ী হয়েছিল। তবে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছিল ব্রিটিশদের দ্বারা। গণগ্রেফতার অভিযান থেকে শুরু করে বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছিল।বিদ্রোহের দ্বিতীয়পর্ব শুরু হয়েছিল ১৯৩৭ সালের শেষের দিকে। ব্রিটিশ বাহিনী ও উপনিবেশবাদকে লক্ষ্য করে এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ফিলিস্তিনি কৃষক। ১৯৩৯ সালের দ্বিতীয়র্ধে ব্রিটেন ফিলিস্তিনে ৩০ হাজার সৈন্য সংগ্রহ করেছিল। সে সময় ফিলিস্তিনের গ্রামগুলোতে বিমান বোমাবর্ষণ, কারফিউ জারি করা, বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া অব্যাহত ছিল ব্রিটিশরা ইহুদি বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা করে সশস্ত্র দলও গঠন করেছিল সে সময়। ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন ইহুদি যোদ্ধাদের নিয়ে একটি ‘বিদ্রোহ দমন বাহিনী’ গঠন করেছিল যার নাম ছিল স্পেশাল নাইট স্কোয়াড।
বিদ্রোহের সেই তিন বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল। আহতের সংখ্যা ছিল ১৫ থেকে ২০ হাজার। বন্দি করা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনিকে।
১৯৪৭ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদি জনসংখ্যা ৩৩ শতাংসে পৌঁছে। সে সময় তারা ৬ শতাংশ জমির মালিক ছিল। ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি রাষ্ট্রে বিভক্ত করতে জাতিসংঘে ১৮১ প্রস্তাব গৃহীত হয়।ফিলিস্তিনিরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল সে সময়।
কারণ প্রস্তাবটিতে ফিলিস্তিনের প্রায় ৫৬ শতাংস ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ ছিল। যার মধ্যে বেশির ভাগ উর্বর উপকূলীয় অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় দেশটির ৯৪ শতাংশের মালিক ছিল ফিলিস্তিনিরা। আর জনসংখ্যা ছিল ৬৭ শতাংশ। আমি মুল ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে লিখতেছি,তবে আজ লেখার শুরুতে সংক্ষিপ্ত আকারে ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু আবেগ ও বিবেকময় কথা লিখলাম। আজ ফিলিস্তিনের নারী শিশু অনাহারে, পানিরও ঔষধের অভাবে, অমানবিকনির্যাতন ও হত্যা রাহাজানির শিকার হয়ে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে।আজ তারা নিজ ভুমিতে জিম্মি হয়ে আছেন ইহুদিদের হাতে।
মুসলমানদের পবিত্র স্থান ইসরায়েল,আজ হিংস্র জানোয়ার পাগলা কুকুর কতৃক হিংস্রতার শিকার।আজ কোথায় মানবাধিকার? কোথায় আছেন বিশ্ব বিবেক? প্রতিদিন বোমার আঘাতে হাজার হাজার নারী, শিশু নিহত হওয়ার পাশাপাশি অনাহারে দিনযাপন করতেছেন। এই নিষ্ঠুরতম শিকার হওয়ার মানুষের জন্য আমরা কিছু করতে না পারলেও আসুন মহান আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি এই দুনিয়াতে যেন ইহুদিদের বিচার আল্লাহ জমিনে হয়। আমরা তাদেরকে হয়তো কিছু করতে পারবোনা তাদের প্রভু আমেরিকার কারণে। আমরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবো । পাশাপাশি জার্মানির প্রাণ পুরুষ,প্রয়াত হিটলারকে স্মরণ করি এবং তার আত্মারপ্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি, তিনি যে একটি ভালো কাজ করে ছিলেন এই বর্বর হত্যাকাÐের জানোয়ারদেরকে উচিৎ শিক্ষা দিয়েছিলেন। হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে বৃটিশরা জোর করে এই ইহুদিদেরকে ফিলিস্তিনে আশ্রয় করে দিয়েছিলেন। যার খেসারত আজকে আমাদের নিরীহ অসহায় মুসলমানদেরকে যান মাল দিয়ে মাসুল দিতে হচ্ছে। আজকে পানি নাই, খাওয়ার নাই, থাকার ঘর নাই, বিদ্যুৎ নাই, রাস্তায় রাত যাপন করতে হচ্ছে নারী পুরুষকে, বিশেষ করে দুধের মাসুম শিশুরাও এই জঘন্য হত্যা কান্ড থেকেই রক্ষা পাচ্ছেনা।
আমরা মুসলমান, আমি প্রতিটি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বিনাবিচারে আমেরিকার শক্তি দিয়ে বিশ্ব মুসলমানদের পবিত্র স্থান ইসরায়েলের মানুষের উপর প্রতিনিয়ত বোমা নিক্ষেপ, প্রকাশ্য গুলি করে নারী- শিশু সহ লাখ লাখ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে আজকে বাংলাদেশের মানবিক মানুষরা শোচ্চার ও সচেতন হয়েছে। ফিলিস্তিনি হত্যার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ মহানগর আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিন এর নেতৃত্বে ২৪শে মে বাদে জুমা জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের সামনে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এ কে ওসমান গনি, বঙ্গবন্ধুর সহচর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন জহুর আহমেদও চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ চৌধুরী ভাস্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক মো: শাহ আলম শিকদার, কোতোয়ালী থানার আহ্বায়ক আবছার উল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, বায়জিদ থানার আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন, সদরঘাট থানার মো: ইকবাল আলী, মো: নূর, মো: আলাউদ্দিন, মো: রুবেল, দিদারুল আলম, জিকু জীবন, সজ্জাদ হোসেন জনি, মো: বেলাল, মো: সাজ্জাদ, জিহাদ আমিন মুন্না, মো: তাহিল, তানজিদ চৌধুরী, আতিক কায়সার আশিক প্রমুখ। মানববন্ধনে নামাজে আগত অনেক মুসল্লীরা ও পথের যাতায়াত কারিরা অংশ নিয়ে সংগতি প্রকাশ করেন।

