সুস্থ জীবন প্রশান্ত মন

মো. কামাল উদ্দিনঃ

 

নির্মল আকাশ, আনন্দ ও ভোরের বিশুদ্ধ বায়ু, তা নিয়ে শুরু হোক সকলের সুস্থ জীবন ও দীর্ঘ আয়ু। এই শ্লোগানকে ধারণ করে ১৯৭৫ সালে বাটালী হীলে আজ্জাদ আলী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সুস্থ জীবন গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে “শতায়ু আঙন”। আমি বন্ধু ওসি জাকিরের সুবাদে গত কয়েক দিন ধরে নিয়মিত সকালে হাঁটার জন্য সেখানে যাচ্ছি। সেখানে ৩০ মিনিটের শরীরচর্চা হয়। কি মধুর মিলন মেলায় পরিণত হয় তা না গেলে কেউ বুঝতে পারবে না। যেমন আমিও এর আগে বুঝিনি। আমি প্রতিদিন ভোরে ডিসি হীলে যেতাম, যেখানে টেলাটেলি করে হাঁটতে হতো—এক কথায় ডিসি হীলে হাঁটার পরিবেশ নেই।

বাটালি হীলের সুন্দর পরিবেশের বর্ণনা কীভাবে দেব? বাটালী পাহাড়ের সবুজ বেষ্ঠনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। এই সবুজ আবরণ শুধু দৃশ্যমান নয়, বরং এটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের সবুজ গাছপালা মাটি ক্ষয় রোধ করে এবং পানির স্তর সংরক্ষণে সহায়তা করে। এরা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে, কারণ গাছগুলো বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এছাড়া, এই সবুজ বনাঞ্চল বহু প্রাণীর আশ্রয়স্থল ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। পাহাড়ের সবুজ বেষ্ঠনি প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুন্দর ও সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য। সেই সবুজ বেষ্টনীতে শরীরচর্চা করাটা খুবই উপকারী।

সুস্থ জীবনের জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যায়াম শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে না, এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নিয়মিত ব্যায়াম হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং মেটাবলিজম বাড়ায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জরুরি।

এছাড়া, ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায় এবং মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা আমাদের সুখী ও উদ্দীপ্ত রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম দেহের পেশী ও হাড়কে মজবুত করে এবং শরীরের গঠনকে সুন্দর করে। এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। এটি হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, বা যেকোনো শারীরিক কার্যক্রম হতে পারে যা আমাদের শরীরকে সক্রিয় রাখে। তাই, সুস্থ ও সুখী জীবনের জন্য নিয়মিত ব্যায়ামকে জীবনের অংশ করে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

 

পরিশেষে বলবো—ঘাম ঝরাই, মায়া ছড়াই।

লেখক: সাংবাদিক, গবেষক, টেলিভিশন উপস্থাপক।

[recent_tabs]