Tuesday, June 23, 2026

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত বীর শহীদদের স্মরণ সভা ও কর্মী সভা

রিপোর্টার :মোনতাহেরুল হক আমিন

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও স্বৈরাচার শাসকের পেটোয়া বাহিনী পুলিশের গুলিতে নিহত বীর শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রামের বাঁশখালী কালীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে দোয়া ও কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার বিকেলে কালীপুর ইউপিস্থ রজনীগন্ধা কমিউনিটি সেন্টার হলরুমে কালীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর এসএম নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক।

কালীপুর ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি আশরাফ হোসাইন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা জামাতের সাংগঠনিক সম্পাদক, বাঁশখালী গুনাগরী মা-শিশু জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু নাছের।

বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল মোস্তফা, নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হোসেন, নায়েবে আমীর আব্দুর রহিম ছানবী, সেক্রেটারি ও গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা আরিফ উল্লাহ, বায়তুল মাল সম্পাদক মহিউদ্দিন, জামাত নেতা মাওলানা এনামুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ জুবায়ের, উপজেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ও পুকুরিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সিকদার, ইলিয়াস মাহমুদ, এস.এম করিম, আমিনুল ইসলাম, মোঃ এজাজ উদ্দিন, আবুল কাশেম সোহাগ, জালাল উদ্দীন, জাহাঙ্গীর আলম, আলী হোসেন,জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী যৌক্তিক দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (সাঃ) মক্কার কাফেরদের ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন, এরই ধারাবাহিকতায় এদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থাণের পর বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সবাইকে ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তাই ছাত্র-জনতার বিজয়কে পুঁজি করে কেউ যেনো কারো জানমালের ক্ষতি সাধন করতে না পারে সেই বিষয়ে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে, বিশেষ করে বাঁশখালীতে সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে জামাত -শিবিরের নেতাকর্মীদের পাহারাদারের দায়িত্ব পালন ও কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন।

বক্তারা আরো বলেন, এবিজয় মানে পূর্ণ স্বাধীনতা নয়, এটা আওয়ামী স্বৈরশাসকের পতনের পরবর্তী স্বাধীনতার সুচনামাত্র। পূর্ণ স্বাধীনতা হবে সেইদিন, যেইদিন এদেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই এদেশে আল্লাহর আইনকে বাস্তবায়ন করার জন্যে রাসুল (সাঃ) এর আদর্শকে বুকে ধারণ করে সবাইকে দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করতে হবে এবং সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতারা সবাই যে মুসলিম তা নয় বরং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ছাত্র -জনতারাও এই আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছে। সুতরাং সকল ধর্মের মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সারাদেশে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় বাঁশখালীতেও সকল ধর্মের মানুষের সমঅধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামাত -শিবিরের নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দেন নেতারা।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত