“বোয়ালখালীর সংসদীয় অংশ পুনরুদ্ধারের দাবি: মো. কামাল উদ্দিন। 

বোয়ালখালী সংসদীয় অংশ প্রতিবাদ ও ফেরতের পাওয়ার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর প্রয়োজন রয়েছে “বোয়ালখালীর জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি, সংসদীয় এলাকার পুনরুদ্ধার। এই দাবি পূরণের লক্ষ্যে এলাকাবাসী বর্তমানে একযোগে প্রতিবাদে সরব হতে চলেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে রাজপথে নামতে হবে, কারণ তাঁদের দাবি একটাই—বোয়ালখালীর সংসদীয় অংশ ফেরত চাই। এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং এলাকাবাসীর অধিকার রক্ষার সংগ্রাম হিসেবেও বিবেচিত হবে। সাবেক স্বৈরচার মন্ত্রী

ড. হাসান মাহমুদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে গাঁয়ের জোরে বোয়ালখালীর সংসদীয় এলাকার পূর্ব অংশ থেকে শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নটি রাঙুনিয়া সংসদীয় আসনে কেটে নিয়ে গেছেন। এই অংশটি ফেরত দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ড. হাসান মাহমুদ এই অংশটি কেটে নিয়ে বোয়ালখালীকে ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা বোয়ালখালী বাসীর সাথে বড় অন্যায় করা হয়েছে ।

যে সময় এই অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে, সেই সময়ে যাঁরা দালালি করেছে, তাঁদেরকে চিহ্নিত করার এখনই সময়। বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি অঞ্চলসহ এই অংশ সুকৌশলে রাঙুনিয়াতে কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে বোয়ালখালীর জনগণ তাদের এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের পক্ষে কথা বলার যোগ্য রাজনৈতিক দল বা পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারছেন না। তাই সময় এসেছে, এই অংশটি ফেরত নেওয়ার জন্য সবাইকে সোচ্চার হওয়ার।

এবার এক নজরে বোয়ালখালী দেখে আসি:বোয়ালখালী শহরের অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হলো ২২.৬৮৫৯০০° উত্তর ৯০.৬৪৬১১৯° পূর্ব। সমুদ্র সমতল থেকে শহরটির গড় উচ্চতা ৮ মিটার। বোয়ালখালীর পশ্চিমে রয়েছে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম, পূর্বে করলডেঙ্গা পাহাড়, দক্ষিণে বৃহত্তর পটিয়া, উত্তর পূর্বে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং বান্দরবান পার্বত্য অঞ্চল। বোয়ালখালী শহরের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কর্ণফুলি নদী। এছাড়া শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নূর মাঝির খাল, ছন্দরিয়া খাল, চোরাখালী খাল, কাটাখালী, বেইচ্চাখালী খাল, রায়খালী খাল, বুড়ির মার খাল এবং মর্দনা খাল। এই শহরটি বোয়ালখালী পৌরসভা দ্বারা পরিচালিত হয় যা ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।

বোয়ালখালী শহরের অবস্থান কর্ণফুলি নদীর পাড়ে। জেলা সড়ক (১১.১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ) পটিয়া উপজেলা থেকে বোয়ালখালী শহরের উপর দিয়ে কানুনগোপাড়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। বোয়ালখালী ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ব্রিটিশ আমলের কর্ণফুলি নদীর উপর নির্মিত রেল সড়ক সেতু। এ সেতু যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করেছে। প্রধান সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে কানুনগোপাড়া-হাওলা ডি.সি সড়ক, শরৎসেন সড়ক, কালুরঘাট-ভান্ডালঝুড়ি সড়ক। এছাড়া নদী পথে যোগাযোগের জন্য ইঞ্জিন চালিত বোট, সাম্পান ও নৌকা উল্লেখযোগ্য।

বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদন্ডীর পূর্ব দিকে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন টেক্সটাইল, লবণ কারখানাসহ বৃহৎ শিল্প কারখানা। কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে পেপার মিলস, ডক ইয়ার্ড, সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, টেক্সটাইল মিলসসহ বিভিন্ন প্রকার ক্ষুদ্র থেকে ভারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে, যা বোয়ালখালীর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই সম্পূর্ণ অঞ্চলটি ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রকৃতির অপূর্ব সংমিশ্রণ যা বোয়ালখালীকে অনন্য করে তুলেছে। এখন সময় এসেছে, এই অঞ্চলটির পুনরুদ্ধারের জন্য সোচ্চার হয়ে অধিকার ফিরিয়ে আনার।

বিস্তারিত লিখবো-

লেখকঃ সাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক ও মহাসচিব- চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।

[recent_tabs]