সকালটা যেন বাটালি হিলের জন্য বিশেষ কিছু নিয়ে এসেছে। কুয়াশার চাদর সরে যাওয়ার পর সূর্যের আলোকরশ্মি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। পাহাড়ের বুক জুড়ে যেন সবুজের চিরন্তন আয়োজন। ফুলে ফুলে, পত্রপল্লবে সজ্জিত প্রকৃতি এখানে এসে দাঁড়ালে হৃদয়কে নীরবে স্পর্শ করে যায়। পাখিরা গান গাইছে এক অপার্থিব সুরে, আর দূর থেকে ভেসে আসা বাতাসের কোমল পরশ গায়ে মাখিয়ে আমি হাঁটছিলাম। এমন সময় চোখে পড়ল তাকে—লাল স্কার্ফে আবৃত, মিষ্টি মুখে একটি প্রাণোচ্ছল হাসি। তার নাম সাবিহা। দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকা এক অপরূপ কল্পনার প্রতীক। তার হাসির মাঝে লুকিয়ে রয়েছে অদ্ভুত এক সরলতা, আর চোখে লুকিয়ে থাকা চাহনিতে এক গভীর আবেগের ছোঁয়া। সেই মুহূর্তেই আমি অনুভব করলাম, এই মেয়েটির মধ্যে কোনো এক গভীর প্রতিভা লুকিয়ে আছে। সাবিহা শুধু যে দেখতে সুন্দর তা নয়; তার ভেতরেও এক অনন্য সুরের মাধুর্য বিরাজমান। সে অসাধারণ আবৃত্তি করে—তার কণ্ঠের মাধুর্য যেন হৃদয়কে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। তার আবৃত্তির সুর যেন শব্দের গহীনে বাস করা এক নির্জন মেঘে আবৃত পাহাড়ি ঝর্ণার মতো। শুধু আবৃত্তি নয়, সে গান গায়, আর সেই সুরে মিশে থাকে তার হৃদয়ের গভীর অনুভূতি। আর, সে টেলিভিশনের পর্দায়ও এসেছে, উপস্থাপক হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে তার অসামান্য প্রতিভা। তার কণ্ঠে আবৃত্তির প্রতিটি শব্দ যেন জীবন্ত হয়ে উঠে, প্রাণ পায়। আমি একজন লেখক এবং সাংবাদিক হিসেবে সবসময় খুঁজি এমন প্রতিভার সন্ধান, যারা তাদের নিজস্ব আলোয় আলোকিত। তাই, সাবিহাকে দেখে আমার মনে হলো সে এক অনন্য প্রতিভাধর মেয়ে, যার সম্পর্কে আরও জানতে ইচ্ছে হলো। তার সাথে কথা বলে বুঝলাম, তার ভেতরে রয়েছে এক নিবিড় শিল্পপ্রেম। কথার মাঝে সে যেন আমার হৃদয়কেও স্পর্শ করল, তার ভেতরে থাকা শিল্পীসত্তা আমাকে মুগ্ধ করল।
সাবিহা এখানে এসেছে তার দুই বোন, বাবা, এবং ভগ্নিপতির সাথে। তাদের ছোট দলটি আজকের এই সুন্দর সকালে পাহাড়ের উঁচুতে দাঁড়িয়ে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজের স্নিগ্ধতা অনুভব করছে। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সে যেন মেঘে মেঘে হারিয়ে যেতে চায়। তার চোখের চাহনিতে এমন এক অদ্ভুত আকর্ষণ রয়েছে, যা যেন আমাদের নিয়ে যায় কোন দূরদেশের কল্পনার মেঘে। এই সকালটা যেন তার জন্যই সাজানো, যেন প্রকৃতি আজ তার প্রতিভা আর সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে চায়। আমি তাকে কথা দিয়েছি, তার জীবনের এই অসামান্য মুহূর্তকে কলমের আঙিনায় ধরে রাখবো। তার সুরের মতো মধুর এই প্রভাতে, আমি তার প্রতিচ্ছবি গেঁথে রাখবো শব্দে। হয়তো একদিন সেই লেখা মেঘের দেশে হারিয়ে যাওয়া কোনো রূপকথার গল্প হয়ে উঠবে। এমন একটি মেয়ের গল্প, যার হৃদয়ে লুকিয়ে আছে সুরের সুধা, যার প্রতিভায় জাগ্রত থাকে অচেনা এক শিল্পের স্পন্দন। আমার মনে হচ্ছে, সাবিহাকে নিয়ে গল্প লেখাটা যেন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার অসাধারণ প্রতিভা আর কোমলতায় মুগ্ধ হয়ে, আমি তাকে নিয়ে লিখবো—এক মেঘবালিকার গল্প, যে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মুক্তির গান গায়। তার গল্প যেন হয়ে উঠুক সেই অদৃশ্য সুরের কাহিনি, যা হৃদয়ের গভীরে এসে মিশে যায়।