“শৈল্পিক মানবিকতায় উজ্জ্বল: শাকিলা সুলতানা মিতু”-মো. কামাল উদ্দিন

আজকের দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শাকিলা সুলতানা মিতুর সাথে এক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ও দীর্ঘ আলাপচারিতার সুযোগ পেয়েছি। শাকিলা সুলতানা মিতু শুধুমাত্র একজন চৌকস ও মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা নন, তিনি আন্তরিকতা, বিনয় ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আমাদের দৈনিক ভোরের আওয়াজ পত্রিকায় তার পেশাগত সফলতা নিয়ে আমি কিছুদিন আগে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। কিন্তু আজ তার সাথে কথা বলে অনুভব করলাম, যা লিখেছি তার তুলনায় তিনি আরও অনেক বড় মাপের একজন দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা। তার শৈশব, পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষা এবং কর্মজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে লুকিয়ে আছে এক নিরন্তর সংগ্রাম ও আত্মোন্নয়নের গল্প।

তিনি একান্ত আলাপচারিতায় জানালেন, শৈশব থেকে বই পড়ার প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। যদিও কর্মব্যস্ত জীবনে সেই অভ্যাস কমে গেছে, তবুও জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি তার আকর্ষণ অপরিবর্তিত। আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থা, অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং আত্মনির্ভরতার অভাব নিয়ে তার মতামত ছিল খুবই বাস্তবসম্মত। তার মতে, দেশের উন্নতির জন্য আত্মনির্ভরতার চর্চা আমাদের মনন ও পরিবারব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

আলাপচারিতার শেষে তাকে আমি ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের উপর রচিত “অদম্য মনোয়ার” বইটি উপহার দিলাম। বইটি গ্রহণ করে তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, তিনি বইটি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। তার প্রতিক্রিয়া আমাকে আনন্দিত করেছে।

শাকিলা সুলতানা মিতু কেবল তার পেশাগত দক্ষতার জন্যই নয়, ব্যক্তিত্বের বিনয়ে, বন্ধুসুলভ আচরণে এবং মানসিক গভীরতায়ও অনন্য। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার নেই, বরং রয়েছে মানবিকতার উষ্ণ ছোঁয়া। তার এমন গুণাবলিতে অনুপ্রাণিত হয়ে মনে হয়, তার জীবনের গভীরতর দিকগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিতভাবে লিখতে হবে।

তিনি যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব আমাদের সমাজে পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবেন—এটাই প্রত্যাশা।বই প্রদানের সময় এসি চকবাজার মাহমুদ সাহেব উপস্থিত ছিলেন।

[recent_tabs]