, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 94%

আবারও বাড়তে পারে চট্টগ্রামে পানির দাম, মতামত নেবে ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম ওয়াসার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক পর্যায়ে পানির দাম সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটির রাজস্ব বিভাগ। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াসা বোর্ড। এ লক্ষ্যে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত পানির মূল্য সমন্বয় করা যায়। এর বেশি বাড়াতে হলে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই বিধান অনুসারেই রাজস্ব বিভাগ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষ্ণু কুমার দে-কে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে এবং বোর্ড সদস্য বেগম সৈয়দা জেরিন হোসেন ও রাসেল মিয়া। পরবর্তী বোর্ড সভার আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা সুপারিশ জমা দেবেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মো. জানে আলম বলেন, আইনের আওতায় প্রতিবছর ৫ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। রাজস্ব বিভাগ সে অনুযায়ী প্রস্তাব দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম ওয়াসা এক দফায় পানির দাম ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি এক হাজার লিটার পানির মূল্য ১৮ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৩৭ টাকা। ওয়াসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির মোট সংযোগ রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫১১টি, যার প্রায় ৯৩ শতাংশই আবাসিক। ফলে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি হলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সাধারণ পরিবারের ওপর।

ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম ছিল ৫ টাকা ৪১ পয়সা, যা ধাপে ধাপে বেড়ে বর্তমানে ১৮ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মূল্য ১৫ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৭ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণে বাস্তবায়িত বিভিন্ন বড় প্রকল্পের কিস্তি পরিশোধের চাপও রয়েছে। এসব আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই পানির মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব আনা হয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত