, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

চীনা পণ্যের শুল্ক ফাঁকি নিয়ে বড় অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা উচ্চ শুল্ক এড়াতে চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ৪০টির বেশি দেশকে ব্যবহার করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চীনা পণ্য প্রথমে তুলনামূলক কম শুল্কের দেশগুলোতে পাঠানো হয়। পরে সেসব দেশ থেকে পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়াকে বাণিজ্যিক ভাষায় ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ বলা হয়।

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করতে নথিপত্র ও প্যাকেজিংয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে চীনে উৎপাদিত পণ্য সরাসরি চীন থেকে আমদানি না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম শুল্কের সুবিধা পেয়েছে।

হোয়াইট হাউসের হিসাবে, এভাবে ৩০ বিলিয়ন থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য উচ্চ শুল্কের দেশ থেকে কম শুল্কের দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে এই হিসাব বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো চীনের সঙ্গে বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর নামও এসেছে। মার্কিন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর দাবি, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির শিল্প ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তবে চীন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবস্থা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বৈধ স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে চীনা পণ্যের অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই বাড়াচ্ছে। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্যের উৎপত্তিস্থল ভুলভাবে দেখানো ও অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট শনাক্তে মার্কিন প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলসংক্রান্ত নথিতেও বলা হয়েছে, চীন সরাসরি রপ্তানির পাশাপাশি বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশ ও বিদেশে স্থাপিত উৎপাদনকেন্দ্রের মাধ্যমে মার্কিন বাজারে পণ্য পাঠাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ ভবিষ্যতের মার্কিন-চীন বাণিজ্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত সরবরাহব্যবস্থার দেশগুলোও নতুন শুল্ক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের চাপের মুখে পড়তে পারে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত