অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রামে বাবা ও ছেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে ছেলে মো. আবদুল্লাহকে চার বছর এবং তার বাবা আবুল বশরকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ ও তার বাবা আবুল বশর কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আবদুল্লাহকে চার বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ছেলেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগে আবুল বশরকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় বাবা ও ছেলে কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল আবদুল্লাহকে সম্পদের বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ মে’র মধ্যে সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবরণী জমা দেননি এবং সময় বাড়ানোর জন্যও কোনো আবেদন করেননি।
পরবর্তী অনুসন্ধানে দুদক আবদুল্লাহর নামে ১ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার ৬৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায়। এর বিপরীতে তার বৈধ ও জ্ঞাত আয়ের উৎস পাওয়া যায় ১০ লাখ টাকা। ফলে ১ কোটি ২৩ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২১৭৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকায় একটি জমি কেনেন আবুল বশর। এর প্রায় তিন মাস পর, ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৬৭ নম্বর হেবা দলিলের মাধ্যমে জমিটি তার বড় ছেলে মো. আবদুল্লাহকে হস্তান্তর করেন।
দুদকের অভিযোগ ছিল, অবৈধ সম্পদ বৈধ করার প্রচেষ্টায় ছেলেকে সহযোগিতা করেন আবুল বশর। আদালতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তারের জন্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
ইতি/
