, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 74%

টিকা পরিবহনে ইউনিসেফের বিশেষায়িত গাড়ি পেল চসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর টিকাদান কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে টিকা ও টিকাদান সামগ্রী পরিবহনের জন্য ইউনিসেফের একটি বিশেষায়িত গাড়ি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নগরের হোটেল পেনিনসুলার সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের কর্মকর্তারা গাড়িটি চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকাতেও বিপুলসংখ্যক শিশু নিয়মিত টিকাদানের আওতায় রয়েছে।

চসিকের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে কিশোরীদের এইচপিভি টিকাদানের আওতা বর্তমানে প্রায় ৭৩ শতাংশ। চলতি বছরের মধ্যে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের টিকাদান-সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ ও অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চসিক এলাকার প্রায় ৮৮ শতাংশ শিশুর ডিজিটাল টিকাদান তথ্য অনুসরণ ব্যবস্থায় নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। জন্মনিবন্ধন নম্বর যাচাইয়ের মাধ্যমে টিকাদানের তথ্য নিবন্ধন করা হলে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড তৈরির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়।

টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার বিষয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। চসিকের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে দ্রুত নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের শিশু, কিশোরী ও নারীদের টিকাদানের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল টিকাদান তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নয়, টিকা পাওয়ার যোগ্য প্রতিটি মানুষের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

তিনি নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি কিশোরীদের জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান এবং নারীদের ধনুষ্টংকার-ডিপথেরিয়া প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

মেয়র আরও বলেন, জন্মনিবন্ধন নম্বরের মাধ্যমে শিশুদের নিবন্ধন ও টিকাদান-সংক্রান্ত তথ্য অনুসরণ নিশ্চিত করা হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এ লক্ষ্যে নগরের শিশু, কিশোরী ও নারীদের ডিজিটাল টিকাদান তথ্য ব্যবস্থার আওতায় আনতে চসিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বী, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান এবং চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালাই আহমদজাই অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ইউনিসেফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডিজিটাল নিবন্ধন, তথ্য অনুসরণ, পর্যাপ্ত জনবল এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে চসিকের টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল টিকাদান ব্যবস্থার ব্যবহার সম্প্রসারণকে শিশুদের টিকাদান কাভারেজ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, VaxEPIসহ ডিজিটাল উদ্যোগগুলো টিকাদান কর্মসূচির নিবন্ধন, পর্যবেক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত