ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিসেম্বর মাসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন, ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।’
দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসারসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। অপরাধ দমনে এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।
আনসারের নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ৩ দশমিক ৪২৮ একর জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁওয়ে সীমিত জায়গায় বাহিনীর সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন স্থানে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে জায়গার সংকট ও যাতায়াতসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাহিনীর জনবল সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্যদের সম্মিলিত সংখ্যা বিবেচনায় আনসার বাহিনীকে দেশের বৃহত্তম বাহিনী হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে ডরমিটরি ও ব্যারাক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে পূরণের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অপরাধের গুরুত্ব ও ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলাও করা হচ্ছে।
যানজট নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার
ঢাকার যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির সহায়তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সড়ক খনন ও নির্মাণকাজের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন কমাতে একসঙ্গে পুরো রাস্তা খনন না করে নির্দিষ্ট অংশের কাজ শেষ করে দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, পিএসসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইতি/
