শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুব সংগঠক মোঃ শাহ আলম সিকদার। একই সঙ্গে দেশের সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মোঃ শাহ আলম সিকদার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবার পরিচয় আমরা মানুষ এবং বাংলাদেশের নাগরিক। তাই প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করা এবং নিরাপদে বসবাস করার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
মোঃ শাহ আলম সিকদার আরও বলেন, দুর্গাপূজার আনন্দ যেন প্রতিটি পূজামণ্ডপ, প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়, সে জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার এই চেতনাকে ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে।
তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো নাগরিক যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য, হয়রানি কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব।
বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের সময় পূজামণ্ডপ, মন্দির, উপাসনালয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি মনে করেন, একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং অন্যের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কোনো বিকল্প নেই। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভেদ নয়, বরং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মোঃ শাহ আলম সিকদার বলেন, উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে, নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সবার জীবনে আনন্দ, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।
আরু//ইতি
