, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 72%

এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবিত ও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএসসিও যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অটোমেশন, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। এখন বাজারকে পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক সংস্কারের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থায়ন কাঠামোতেও মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ব্যাংকঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের সুযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন ও ইক্যুইটি মার্কেটকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

আইএমএফ প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জন্য সংস্থাটির কর্মসূচির কিছু শর্ত গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় সরকার সেটি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। নিউইয়র্কে ডলার বন্ড এবং হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামুরাই বন্ড ও প্যান্ডা বন্ডের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক উপকরণ ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থায়ন কাঠামো আরও বৈচিত্র্যময় করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে বড় পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু প্রচলিত বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে প্রবেশের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য সুশাসন, স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশ অনুকূল করা গেলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত