জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালক মো. তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
রায়ে তাজুল ইসলামকে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তাঁর স্ত্রীকেও তিন বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা এবং একই পরিমাণ ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, তাজুল ইসলাম ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসায় হেলপার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পরে তিনি গাড়িচালকের দায়িত্ব পান। চাকরিজীবনে তাঁর আয় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তদন্ত শুরু করে।
২০২২ সালের ৫ মার্চ তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী খাইরুন্নেছার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১ জুলাই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়, ২০০২ সালে তাজুল ও তাঁর স্ত্রী চট্টগ্রাম নগরের রৌফাবাদ এলাকায় তিন শতক জমি কেনেন। ওই জমিতে নির্মাণ করা হয় পাঁচতলা একটি ভবন, যেখানে রয়েছে ১৭টি ফ্ল্যাট। দুদকের তদন্তে খাইরুন্নেছার নামে জমি, ভবন ও ব্যাংকে থাকা অর্থসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
দুদকের তদন্তে আরও বলা হয়, ভবনটির নির্মাণ ব্যয় নথিতে যে পরিমাণ দেখানো হয়েছিল, পরিমাপের পর তার চেয়ে বেশি ব্যয় হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি খাইরুন্নেছার নামে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ব্যাংক আমানতের তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।
দুদকের দাবি, খাইরুন্নেছার স্বতন্ত্র আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস তদন্তে পাওয়া যায়নি। মামলায় তাঁর নামে পোলট্রি খামারের আয় দেখানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন জানান, মামলায় মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত এ রায় দেন।
ইতি/
