, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপানের মারুবেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন। সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অটোমোবাইল ও জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাইউকি ওমোটোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

সার উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনা

বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মারুবেনির সিইও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান ওমোতো। যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

পাট ও অটোমোবাইল শিল্পে নতুন উদ্যোগ

বৈঠকে বাংলাদেশের পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাটের আঁশের সঙ্গে তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টার মিশিয়ে নতুন পণ্য তৈরি, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকার।

এ ছাড়া টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি উৎপাদনের প্রস্তাব, জাহাজ পুনর্ব্যবহারে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে।

বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে অগ্রগতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আলোচনায় উঠে আসা সম্ভাবনাগুলোর বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার ওপর।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত