, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 63%

মাল্টার ৫২০ টাকা পর্যন্ত দাম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে মাল্টার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ১২১ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক-কর থাকার পরও কোনো কোনো স্থানে মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মাল্টার দাম কিছুটা কমেছে। তবে ফলের ওপর উচ্চ শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। বর্তমানে ফল আমদানিতে মোট করের বোঝা প্রায় ১২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ডলার সংকটের সময় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ফলের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে মানুষ যাতে সহজে ফল কিনতে পারে এবং সারা বছর বাজারে ফলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, শুধু রমজানকেন্দ্রিক নয়, ফল ও খেজুরের শুল্ক দীর্ঘমেয়াদে যৌক্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও খালাসের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলোও দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

খেজুরের শুল্ক কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এদিকে ডিমের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মৌসুমি কারণে নির্দিষ্ট সময়ে ডিমের সরবরাহ কিছুটা কমে যায়। গরমে মুরগির ডিম দেওয়ার হার কমার পাশাপাশি নষ্ট হওয়ার পরিমাণও বাড়ে। একই সময়ে ডিমের চাহিদা বাড়লে বাজারে সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তবে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ন্যূনতম মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে অতিরিক্ত চাপ কমাতে বিভিন্ন আমদানি পণ্যের শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের পর তাদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতার যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বর্তমান বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত