, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

পদত্যাগের খবর নাকচ করে চুয়েট ক্যাম্পাসে ফেরার ঘোষণা উপাচার্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি এবং ক্যাম্পাসে আর ফিরবেন না—এমন কোনো মুচলেকাও দেননি। শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা জানান। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণেই তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও সুস্থ হওয়ার পর দায়িত্বে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ, পরে হাসপাতালে ভর্তি

চুয়েটে নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো নিজের কার্যালয়ে যান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হলে উপাচার্যসহ ১২ জন সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকার কারণে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় বলে দাবি করেন শেখ শরীফুল আলম। পরে প্রশাসনের সহায়তায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি সেখান থেকে বের হন এবং রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপাচার্য জানান, তার রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। মাথাব্যথা ও বুকে ব্যথাও আগের তুলনায় কমেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে।

পদত্যাগ ও ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্ত অস্বীকার

ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তার পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে চুয়েটে না ফেরার শর্তে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে অসত্য বলে দাবি করেন উপাচার্য। তার বক্তব্য, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে; পদত্যাগ কিংবা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি।

তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় শারীরিক অবস্থা এমন ছিল না যে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবেন। তাই তার বক্তব্য না নিয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস

কবে নাগাদ ক্যাম্পাসে ফিরবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাননি শেখ শরীফুল আলম। তবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব পালন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে চান তিনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তিনি নিজেও চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগও হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা কোনো মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শেখ শরীফুল আলম। সেখানে তার বিরুদ্ধে তদন্তে নেতিবাচক কিছু পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সুস্থ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চুয়েটের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলেও জানান উপাচার্য।

যেভাবে শুরু হয় চুয়েটে অচলাবস্থা

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন।

একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

উপাচার্যের দায়িত্বে ফেরা নিয়ে তার বক্তব্যের বিপরীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত