হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেন্দ্রিক যানজট কমাতে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন না করায় নগরীর ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২০ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিককে আরও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে পাশের খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে ২ লাখ টাকা।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিডিএর বরাতে জানানো হয়, গত ১৩ অক্টোবর পরিচালিত সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের মাধ্যমে এসব জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিডিএর অথরাইজড অফিসার-১ ও স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন।
সিডিএর উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নগরীর মেহেদিবাগ থেকে প্রবর্তক হয়ে মির্জাপুল পর্যন্ত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেন্দ্রিক যানজট কমানো। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে সংশোধনের নির্দেশ দেয় সিডিএ। পরবর্তী সময়ে দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় ১৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় পরিদর্শন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এরপর আইনগত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ভবন মালিককে পৃথকভাবে জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সংলগ্ন খান ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পকেও জরিমানার আওতায় আনা হয়।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, নগর উন্নয়ন ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষকে যেন যানজটের কারণে অতিরিক্ত দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট ও পার্কিং সমস্যা সমাধানে ২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে সিডিএ। ওই সভায় সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
নগরীর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং হাসপাতালগামী রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইতি/
