, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 63%

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু, ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত দলের সদস্যরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করেন। এদিকে, এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিকদের একজন মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত দল দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে আগুনের সূত্রপাত, রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ভবনটির অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রিসোর্ট পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্রও যাচাই করছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি পর্যটকদের মৃত্যুর পেছনে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ করতে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

মালিককে প্রধান আসামি করে মামলা

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে রিসোর্টের মালিক তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নাম রয়েছে। ঘটনার পর আটক ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকেও মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের বক্তব্য অনুযায়ী, রিসোর্টটি প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) অনুমোদনও নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মেরিন ড্রাইভের পূর্ব পাশে প্রায় ২০ শতক জমিতে নির্মিত তিনতলা রিসোর্টটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় কাঠের পাটাতন ব্যবহার করা হয়েছিল। ভবনটির নির্মাণকাঠামো ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রিসোর্টের ভেতরে বিকট শব্দ শোনার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তখন ভবনের ওপরের তলাগুলোতে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। কয়েকজন প্রাণ বাঁচাতে নিচে লাফ দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

চার মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।

অন্য চারজনের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবক্তগীন মাহমুদ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ, রিসোর্টের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ঘটনার দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত