চাকসুর মেয়াদ শেষ, পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সপ্তম কার্যনির্বাহী কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৩ অক্টোবর। বর্তমান কমিটির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় এখন নতুন নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের এক বছর পর সংসদের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তিন মাসের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। তবে এখনো নির্বাচনের নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পরবর্তী চাকসু নির্বাচনের জন্য পৃথক বরাদ্দ না থাকার বিষয়টি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বিকাশে ছাত্র সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি না দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
চাকসুর বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি জানিয়েছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দাবি তাঁরা শুরু থেকেই জানিয়ে আসছেন। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি ছিল তাঁদের।
তিনি বলেন, দ্রুত নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসন কোনো কারণে নির্বাচন আয়োজন থেকে পিছিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান জানিয়েছেন, চাকসুর কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসন সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ছাত্র সংসদকে কার্যকর রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দীর্ঘ ৩৫ বছর বিরতির পর ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতে জয় পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। বাকি পদগুলোর মধ্যে একটিতে ছাত্রদল-সমর্থিত প্রার্থী এবং অন্যটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হন।
এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন অবশ্য একরকম নয়। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসার পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এখন নতুন নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ছাত্র সংসদের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই সংশ্লিষ্টদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইতি/
