উচ্ছেদের পর আবারো দখল বাণিজ্যে নতুন ব্রিজ ফুটপাত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরের ফুটপাতে হকার উচ্ছেদে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। উচ্ছেদকৃত স্থানে কোনো হকার বসলেই করা হচ্ছে উচ্ছেদ। তাছাড়া ফুটপাত ও সড়ক দখল করে নতুন করে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না বলে সাব জানিয়ে দিয়েছেন চসিক।এ নিয়ে চসিক কড়া বার্তা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।তাছাড়া ফুটপাত উদ্ধারে নাগরিক দাবিও জোরালো হচ্ছে।চসিক গত ৮ ফেব্রুয়ারি একযোগে সাতজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরের ফলমন্ডি লেন থেকে নিউমার্কেট, জিপিও, আমতলা পর্যন্ত অবৈধভাবে সড়ক-ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় ১ হাজার স্থাপনা উচ্ছেদ করে।এই কারণে চট্টগ্রামবাসীর অভিভাবক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মহোদয় কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নগরবাসী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ।

 

তারই ধারাবাহিকতায় নগরীর নতুন ব্রিজ সংলগ্ন বশিরুজ্জামান চত্বর থেকে বাস্তুুহারা নোমান কলেজ এবং বেড়া মার্কেট পর্যন্ত রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ভাসমান মার্কেট এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর এখানেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

 

বাকলিয়া থানার সেই অভিযান ছিল লোক দেখানো,কয়দিন যেতে না যেতেই আবারো পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে পুরো ফুটফাত ও রাস্তা।সম্প্রতি নতুন ব্রিজ বশিরুজ্জামান চত্বরে সেই ফুটপাত নিয়ে আবারো শুরু হয়েছে দখল বাণিজ্য।সড়ক ও ফুটপাত ভাসমান হকারদের রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা করে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।নগরীর বিভিন্ন স্থানে হকার ফুটপাত দখল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ফুটপাতে হকার উচ্ছেদে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা থাকলেও নতুন ব্রীজ দেখা যাচ্ছে এর ভিন্ন চিত্র।নতুন করে দোকান বসাচ্ছে রাস্তার অধিকাংশ জায়গা দখল করে।নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ,দোকান অনুপাতে বড় অঙ্কের চাঁদা নেয় চাক্তাই ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) এসআই সোহলে রানার নামে সোর্স মিনহাজ প্র: ছোট মিনহাজ।পূর্ব পাশে (নোমান কলেজের মুখ) পুলিশের সোর্স মিনহাজ প্র: ছোট মিনহাজ ,প্রতি দোকানদারের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫০/৩০০ টাকা করে নেয় লাইন খরচ ও ফাঁড়ির নামে,এককালিন নেওয়া হয় ১৫/২০ হাজার টাকা।প্রশাসনের পরেও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা আজমীর ও রানাকেও দিতে হয় চাঁদা।

 

শনিবার (২৩ ফ্রেবুয়ারী) সন্ধ্যা ৭ টায় এই হকার বসানো নিযে দুই গ্রুপের নতুন ব্রিজ পূর্ব পাশে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে হকার বেলাল এর সাথে সোর্স মিনহাজ প্র: ছোট মিনহাজ এর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হলে একপক্ষ ফোন করে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী ডেকে নিয়ে আসে।বাস্তুুহারা নোমান কলেজ মুখে ফুটপাতে জুড়েই থাকে অবৈধ হকারদের রাজত্ব।পুরো ফুটপাত থাকে তাদের দখলে।ফুটপাতে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় জনবহুল জায়গায় দোকান বসানো নিয়ে হকারদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে।এ নিয়ে ইতিপূর্বে হকারদের মধ্যে হাতাহাতির বেশ কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ফল বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি জানান,রাস্তায় দোকান বসালে খরচতো আছেই।পুলিশের কাছের লোক মিনহাজ আমাদেরকে বসায়, সম্মানী হিসেবে ১৫/২০ হাজার করে দেই দোকান প্রতি।তার বাইরে প্রতিদিন ২০০/৩০০ টাকা দিতে হয়।মিনহাজ কার নামে টাকা নেয়,এবিষয়ে জানতে চাইলে এ ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন পুলিশের নাম করে টাকা নেয়।

 

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম বলেন যেখানে হকার বসবে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চলবে, কোনভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখল করা যাবে না।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জনসাধারণের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।

[recent_tabs]