‘কাঁদতে থাকো বিশ্ববিবেক’ফিলিস্তিনি ও ইসরাইল সংঘাত কেন?

মো:কামাল উদ্দিনঃ

 

ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘাতে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অনেকে। এই দুই সম্প্রদায়ের সংঘাতের বীজ বোনা হয়েছিল এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে পরিচালিত একটি ঔপনিবেশিক কর্মে।

 

১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর বিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব আর্থার বেলফোর ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের একজন সদস্য লিওনেল ওয়াল্টার রথচাইল্ডকে সম্বোধন করে একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিটি ছিল মাত্র ৬৭ শব্দের। কিন্তু এর তাৎপর্য এত বেশি তা এখনো ধারণ করতে হচ্ছে পৃথিবীকে।এই চিঠিতে ব্রিটিশ সরকারকে ‘ইহুদি জনগণের জন্য ফিলিস্তিনে একটি জাতীয় বাসস্থান প্রতিষ্ঠা’ ও তার ‘অর্জন’ সহজতর করার কথা উল্লেখ ছিল। আর এই চিঠিটিই বেলফোর ঘোষণা নামে পরিচিত। সেসময় ফিলিস্তিনে আরব স্থানীয় জনসংখ্যা ছিল ৯০ শতাংশেরও বেশি।

 

ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে একটি ব্রিটিশ আদেশপত্র অথবা ম্যান্ডেট ১৯২৩ সালে তৈরি করা হয়েছিল। স্থায়ী হয়েছিল ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত। এ সময় ইহুদি অভিবাসনকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছিল ব্রিটিশরা। ইউরোপে নাৎসিবাদের অত্যাচার থেকে পালাতেও অনেকে ফিলিস্তিনে আশ্রয় নিয়েছিল।

 

১৯৩০-এর দশকে যা ঘটেছিল ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরববিদ্রোহের সূচনা করেছিল। স্থায়ী হয়েছিল ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত। ১৯৩৬ সালের এপ্রিলে নবগঠিত আরব জাতীয় কমিটি ফিলিস্তিনিদের ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ও ক্রমবর্ধমান ইহুদি অভিবাসনের প্রতিবাদে ট্যাক্স প্রদান বন্ধ ও ইহুদি পণ্য বয়কটের মাধ্যমে একটি সাধারণ ধর্মঘট শুরু করার আহ্বান জানায়।এ ধরনের ধর্মঘট ছয় মাস স্থায়ী হয়েছিল। তবে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছিল ব্রিটিশদের দ্বারা। গণগ্রেফতার অভিযান থেকে শুরু করে বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছিল।বিদ্রোহের দ্বিতীয়পর্ব শুরু হয়েছিল ১৯৩৭ সালের শেষের দিকে। ব্রিটিশ বাহিনী ও উপনিবেশবাদকে লক্ষ্য করে এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ফিলিস্তিনি কৃষক। ১৯৩৯ সালের দ্বিতীয়র্ধে ব্রিটেন ফিলিস্তিনে ৩০ হাজার সৈন্য সংগ্রহ করেছিল। সে সময় ফিলিস্তিনের গ্রামগুলোতে বিমান বোমাবর্ষণ, কারফিউ জারি করা, বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া অব্যাহত ছিল ব্রিটিশরা ইহুদি বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা করে সশস্ত্র দলও গঠন করেছিল সে সময়।  ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন ইহুদি যোদ্ধাদের নিয়ে একটি ‘বিদ্রোহ দমন বাহিনী’ গঠন করেছিল যার নাম ছিল স্পেশাল নাইট স্কোয়াড।

 

বিদ্রোহের সেই তিন বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল। আহতের সংখ্যা ছিল ১৫ থেকে ২০ হাজার। বন্দি করা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনিকে।

 

১৯৪৭ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদি জনসংখ্যা ৩৩ শতাংসে পৌঁছে। সে সময় তারা ৬ শতাংশ জমির মালিক ছিল। ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি রাষ্ট্রে বিভক্ত করতে জাতিসংঘে ১৮১ প্রস্তাব গৃহীত হয়।ফিলিস্তিনিরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল সে সময়। কারণ প্রস্তাবটিতে ফিলিস্তিনের প্রায় ৫৬ শতাংস ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ ছিল। যার মধ্যে বেশির ভাগ উর্বর উপকূলীয় অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় দেশটির ৯৪ শতাংশের মালিক ছিল ফিলিস্তিনিরা। আর জনসংখ্যা ছিল ৬৭ শতাংশ। আমি মুল ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে লিখতেছি,তবে আজ লেখার শুরুতে সংক্ষিপ্ত আকারে ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু আবেগ ও বিবেকময় কথা লিখলাম। আজ ফিলিস্তিনের নারী শিশু অনাহারে, পানিরও ঔষধের অভাবে, অমানবিক নির্যাতন ও হত্যা রাহাজানির শিকার হয়ে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে।আজ তারা নিজ ভুমিতে জিম্মি হয়ে আছেন ইহুদিদের হাতে।

 

মুসলমানদের পবিত্র স্থান ইসরায়েল,আজ হিংস্র জানোয়ার পাগলা কুকুর কতৃক হিংস্রতার শিকার।আজ কোথায় মানবাধিকার? কোথায় আছেন বিশ্ব বিবেক? প্রতিদিন বোমার আঘাতে হাজার হাজার নারী, শিশু নিহত হওয়ার পাশাপাশি অনাহারে দিনযাপন করতেছেন। এই নিষ্ঠুরতম শিকার হওয়ার মানুষের জন্য আমরা কিছু করতে না পারলেও আসুন মহান আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি এই দুনিয়াতে যেন ইহুদিদের বিচার আল্লাহ জমিনে হয়। আমরা তাদেরকে হয়তো কিছু করতে পারবোনা তাদের প্রভু আমেরিকার কারণে। আমরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবো । পাশাপাশি জার্মানির প্রাণ পুরুষ,প্রয়াত হিটলারকে স্মরণ করি এবং তার আত্মারপ্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি, তিনি যে একটি ভালো কাজ করে ছিলেন এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের জানোয়ারদেরকে উচিৎ শিক্ষা দিয়েছিলেন। হিটলারের হাত থেকে বাঁচতে বৃটিশরা জোর করে এই ইহুদিদেরকে ফিলিস্তিনে আশ্রয় করে দিয়েছিলেন। যার খেসারত আজকে আমাদের নিরীহ অসহায় মুসলমানদেরকে যান মাল দিয়ে মাসুল দিতে হচ্ছে। আজকে পানি নাই, খাওয়ার নাই, থাকার ঘর নাই, বিদ্যুৎ নাই, রাস্তায় রাত যাপন করতে হচ্ছে নারী পুরুষকে,বিশেষ করে দুধের মাসুম শিশুরাও এই জঘন্য হত্যা কান্ড থেকেই রক্ষা পাচ্ছেনা।

 

আমি একজন মুসলমান, আমি প্রতিটি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বিনাবিচারে আমেরিকার শক্তি দিয়ে বিশ্ব মুসলমানদের পবিত্র স্থান ইসরায়েলের মানুষের উপর প্রতিনিয়ত বোমা নিক্ষেপ, প্রকাশ্য গুলি করে নারী- শিশু সহ লাখ লাখ মানুষ হত্যা, যা গণ হত্যার শামিল। এই গণ হত্যার বিচার করতে আজ বিশ্ববাসীরা ব্যর্থ হচ্ছে। আজ পুরো বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠন ও জাতীয় সংঘের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। হিংস্র জানোয়ার ইহুদি কুকুর ইসরায়েলের বিচার হবে কিনা তার জন্য। আজ পুরো বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো ঘুমিয়ে আছে কেন আমরা জানিনা। এই মানবতা বিরোধী হত্যা কান্ড ও ফিলিস্তিনিদেরকে বেঁচে থাকার জন্য সুযোগ দিন।আজকে সময় এসেছে, আমাদের নির্যাতিত শিশুদের রক্ষায়। বীরদর্পে মুসলমানদেরকে এগিয়ে এসে ফিলিস্তিনি ভাই বোন এবং দুধের মাসুম শিশুদেকে রক্ষা করার। সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা রোখে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করবো।ইনশাআল্লাহ ফিলিস্তিনবাসী জয় হবে।তাদের জয় অনিবার্য।

 

আমি কোন ব্যক্তি বিশেষ ইহুদির বিরুদ্ধে নয়,আমি একজন মানবিক বিবেচনা সম্পুর্ন মানুষ হিসেবে ইসরায়েলের হিংস্র জানোয়ার পাগলা কুকুরদের শাস্তির জন্য যে কোন ধরনের প্রতিবাদ করে যাবো।তার জন্য যদি আমার ফাঁশি ও হয় তাতে আমার কোন দুঃখ থাকবেন না। আমি কোনো জঙ্গি নয় এবং হিংসার প্রতিশোধ নেওয়ার মানুষও নয়।আমি ন্যায় বিচার চাই।

 

তাদের এখন জরুরি প্রয়োজন খাদ্য, চিকিৎসা, ঔষধ,বিশুদ্ধ পানি,বিদ্যুৎ সংযোগ, ইন্টারনেট ব্যবহার করার ব্যবস্হা।বিশ্বের নির্যাতিত ফিলিস্তিনবাসীর আদি ইতিহাস লিখবো।কেন তারা আজ নিজ ভুমিতে কেন পরবাসী হিসেবে জিম্মি হয়ে আছে। এই সেই দেশ যেদেশ অসংখ্য আল্লাহ নবী রসুলের জন্মস্থান। পৃথিবীর পবিত্র মসজিদ আল আকসা থেকে আমাদের বিশ্ব নবী, পবিত্র শবে মেরাজ শরীফে গিয়েছিলেন এবং আল্লাহ নবীর পিছনে পৃথিবী সৃষ্টির পর হতে সকল নবীরা এই মসজিদে নামাজ আদায় করে ছিলেন। আজ সেই মসজিদ পাপী ইহুদিদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। আজকে বিশ্ব মুসলমানদেরকে অনুরোধ করবো।পৃথিবীর অন্যতম দখল বাজ শোষণ উৎপীড়নে হোতা, আমাদের ভারত বর্ষ তথা এই বাংলাকে দখল করে এইদেশ থেকে সম্পদ লুন্ঠন ও আমাদের স্বাধীনতা হরণকারী বৃটিশ নামিয় লুন্ঠনকারিদেরকে অভিশাপ দিতে, তাদের কারণে শত বছর আগে হিটলার কতৃক হত্যার শিকারকারি।ইসরাইলি পাষন্ড, মানুষ নামে হিংস্র জানোয়ার পাগলা কুকুরদেরকে এই স্বাধীন ফিলিস্তিনে আশ্রয় দিতে বাধ্য করেছিলেন এই সেই বিশ্বের মানবিক ও তথাকথিত সভ্য নামে বৃটিশরা জোরকরে ইহুদিদেরকে বসবাস করার ব্যবস্হা করেছিলেন। আজ আমরা প্রার্থনা করি তাদের উপর যেন আল্লাহ গজব নাজিল হয়। এই অত্যাচারিরা সবাই এক, তারা আমাদের মুসলমানদের উপর অত্যাচার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়। আজ তাঁরা আমেরিকার শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে ইসরাইয়েলের পক্ষে কাজ করতেছেন। মুসলমানরা পৃথিবীতে বীরত্বের সাথে দেশ পরিচালনা করেছেননশত শত বছর। মুসলমানদের পরাজয়ের ইতিহাস নেই। আগামীতেও মুসলমানদের জয় সুনিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ।সবাই একটু মন খুলে ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। আজ তারা আমেরিকার শক্তির কারণে অনাহারে দিনযাপন করতেছেন। প্রতিদিন চলছে গণ হত্যা। এই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার কখন হবে সেই অপেক্ষায় আছি।ফিলিস্তিনির ইতিহাসের লেখা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে।

 

লেখকঃ সাংবাদিক, গবেষক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও মহাসচিব, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।

[recent_tabs]