Tuesday, June 23, 2026

রাউজানে নুরুল আলম নুরু হত্যাকাণ্ড: হত্যাকারিদেরকে রেজাউল করিম ও বালু কামাল অর্থায়ন করতো!-মো.কামাল উদ্দিন। 

রাউজানে আলোচিত-সমালোচিত কুখ্যাত খলনায়ক ফজলুল করিমের নির্দেশে ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম শহরের গনি বেকারি এলাকার বাসা থেকে পুলিশ এসআই শেখ জাবেদ ও সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে রাউজানে নির্মমভাবে হত্যা করে কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এই ঘটনায় রাউজানের তৎকালীন ওসি ক্যাপায়েতকে বাদ দিয়ে ফজলুল করিমকে প্রধান আসামি করে গত ১ সেপ্টেম্বর চকবাজার থানায় অপহরণপূর্বক হত্যা মামলা দায়ের হয় (মামলা নম্বর-১, তারিখ ১/৯/২০২৪; ধারা ৩০২/৩৬৪/৩৪)।

 আসামির তালিকা এই মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন ফজলুল করিম, এসআই শেখ জাবেদ, বাবুল মেম্বার, নাসের ওরফে টাইগার নাসের, মো. লিটন, তৈয়ব, ফরিদ, মামুন, আবু জাফর রাশেদ, ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বাছইন্যা, সেকান্দর, জসিম, খালেক, বাবুল, মো. রব্বানী, হাসান মোহাম্মদ নাসির, মো. মোরশেদ এবং আরও ৩০/৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, এই সন্ত্রাসীরা রাউজানে তাদের নেতার নির্দেশে প্রতিনিয়ত হত্যা, রাহাজানি, নারী ধর্ষণ, অপহরণ এবং চাঁদাবাজি করতো। বিশেষ করে, কর্ণফুলী নদীর বালুচর নিয়ন্ত্রণের সময় তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে রেজাউল করিম চৌধুরী ও বালু কামালের।

বালু চুরি ও অপরাধজগতের যোগসূত্র রেজাউল করিম চৌধুরী, যিনি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হন, কর্ণফুলী নদীর বালুচর নিয়ন্ত্রণ করে বালু ব্যবসা শুরু করেন। তার প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ-এর মাধ্যমে তিনি বালু চুরি করেন এবং সেই কারণে তিনি “বালু চৌধুরী” নামে পরিচিত। তার সহযোগী ছিলেন কালুরঘাটের বালু কামাল, যিনি মূলত বালু চোরের নেতা। তারা মিলে রাতের বেলায় বালু চুরি করে বিক্রি করতেন এবং বালু চুরির অর্থ ভাগাভাগি করতেন।

বৈধ বালুর ব্যবসা শুরু করলেও পরে এই বালু চুরির মাধ্যমে রেজাউল করিমের সঙ্গে বালু কামালের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক প্রভাব রেজাউল করিম, শেখ হাসিনার আশীর্বাদে রাতারাতি মেয়র হওয়ার পর, ফজলুল করিমকে খুশি করার জন্য নোয়া পাড়ার কিলার বাহিনীকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা দিতেন। এই অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে অপরাধ কর্মে উৎসাহিত করতেন। অভিযোগ রয়েছে, নুরুকে হত্যার পরও রেজাউল করিম ও বালু কামাল এই সন্ত্রাসীদের আনন্দ-উল্লাসের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন।

সিটি করপোরেশন ও অবৈধ কার্যক্রম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে রেজাউল করিম শত শত কোটি টাকার কাজ বালু কামালের নামে বরাদ্দ দেন। এক্ষেত্রে প্রকৃত মালিক ছিলেন রেজাউল করিম, তবে কামাল তার থেকে একটি অংশ পেতেন বলে জানা যায়। সিটি করপোরেশনের গোপন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ঠিকাদারদের বিল আটকে থাকলেও কামালের বিল আগাম পরিশোধ করা হতো।

কর্ণফুলী নদীর নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন রেজাউল করিম ও বালু কামাল কর্ণফুলী নদীতে অবৈধভাবে বালু বিক্রির একাধিক কেন্দ্র পরিচালনা করেন। একে খানের ম্যাচ কারখানার পাশে তাদের একটি বড় আকারের অবৈধ বালু বিক্রি সেন্টার রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা আয় হয়। রেজাউল করিম চৌধুরী বালুর ব্যবসা শুরু করেছিলেন নুর সিন্ডিকেটের নামে বন্দর থেকে ইজারা নেওয়া নোয়াপাড়া বালুচরের মাধ্যমে, অভিযোগ রয়েছে, নুর সিন্ডিকেটের বালু ব্যবসা থেকে রেজাউল করিম প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

রেজাউল করিম ও বালু কামাল নোয়া পাড়ার সন্ত্রাসীদের আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর ব্যবসায়ী ও নোয়া পাড়ার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। এ বিষয়ে সমাজের সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

চলবে-২/ রাজনীতি ও অপরাধচক্রের মেলবন্ধন রেজাউল করিমের রাজনৈতিক উত্থান এবং ক্ষমতা লাভের পেছনে অপরাধচক্রের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্কের বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। মেয়র হওয়ার পরও রেজাউল করিম নিয়মিতভাবে এই অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করতেন। নোয়া পাড়ার সন্ত্রাসীরা তার বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করতো। রেজাউল করিমের অফিসে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কঠিন হলেও এই সন্ত্রাসীদের অবাধ যাতায়াত ছিল। এই বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করে রেজাউল করিমের প্রশাসনিক আচরণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতি তার দায়িত্বশীলতা।

অর্থের বিনিময়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রেজাউল করিম ও বালু কামাল শুধু যে নুরুল আলম নুরু হত্যাকারীদের আর্থিক সহযোগিতা করতেন তাই নয়, তাদেরকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য উসকানিও দিতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সন্ত্রাসীরা কর্ণফুলী নদীর অবৈধ বালু ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রেজাউল করিমের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট করতো এবং নির্দেশনা পেতো। রেজাউল করিম ও বালু কামালের যৌথ অর্থায়নে এসব সন্ত্রাসী দল কর্ণফুলী নদী এলাকা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে চাঁদাবাজি, খুনখারাবি এবং অপহরণের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ করে আসছে।

প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তির সঙ্গে রেজাউল করিমের সখ্যতা এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার অপকর্মের সহযোগীরা নিয়মিত বালু কামালের আড়ালে রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে রেজাউল করিমের গভীর সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো সুষ্ঠু তদন্ত এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

বালুচর থেকে বহুতল ভবন: সম্পদের পাহাড় অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল করিম ও বালু কামাল যৌথভাবে বালু ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকাবাসীকে ভয় দেখিয়ে জমি দখল থেকে শুরু করে সরকারি জমিও আত্মসাৎ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে তাদের নামে একাধিক বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা তারা অপরাধের টাকায় গড়ে তুলেছেন।

অপরাধ জগতের রাজা থেকে রাজনীতির মসনদ রেজাউল করিম চৌধুরী ও বালু কামাল চট্টগ্রামে তাদের অপরাধ সাম্রাজ্যকে বৈধতা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন। বিশেষ করে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্যতার কারণে তাদের অপরাধজগতের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

রেজাউল করিম চৌধুরী ও বালু কামালের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চট্টগ্রামের মানুষের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সাধারণ মানুষ এখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে। প্রশাসন এবং সরকারের উচিৎ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং চট্টগ্রামের জনগণকে এই দুষ্কৃতকারীদের হাত থেকে মুক্ত করা।এখন অপ্রিয় হলেও সত্যি যে রেজাউল করিম চৌধুরী আত্মগোপন করার পর বালু কামাল এখন নিজেকে বিএনপির নেতা বলে দাবী করে প্রচার চালাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত