প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই রাস্তায় নামি। শহর তখনো ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে থাকে, আর আমি খুঁজে ফিরি একটা পরিচিত মুখ—রিয়াদ ভাই।
রিয়াদ ভাইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক বহুদিনের। ঠিক কতদিনের, হিসেব করে বলা মুশকিল। মনে হয় যেন চিরকাল ধরেই তাকে চিনি। হাঁটতে হাঁটতে পরিচয় হয়েছিল, তারপর কেমন করে যেন বন্ধুত্ব গাঢ় হয়ে উঠল।
রিয়াদ ভাই এক অদ্ভুত মানুষ। সকালে হাঁটেন নিয়ম করে, শরীরচর্চা তার নেশা। যেন জীবনের প্রতিটি দিনকেই তিনি নতুনভাবে জিতে নিতে চান। তার বডি ফিটনেস দেখে অনেক তরুণও লজ্জা পায়। অথচ এই মানুষটাই আবার ভীষণ ভোজনরসিক। হাঁটাহাঁটি শেষে তেলের পরোটা, মাংসের কালাভুনা, নানারকম চটপটি– সবই তার পছন্দের তালিকায়।
আমি প্রায়ই ঠাট্টা করে বলি, “রিয়াদ ভাই, এত ব্যায়াম করেও খাওয়ায় এত মনোযোগ কেন?”তিনি হাসেন। সেই হাসির মধ্যে গভীর এক জীবনদর্শন লুকিয়ে থাকে।”ভাই, জীবন মানে শুধু ছিপছিপে থাকা নয়, মাঝে মাঝে মনের কথাও শুনতে হয়,” বলেন তিনি।
রিয়াদ ভাইয়ের আরও একটা বড় গুণ হলো তার প্রতিবাদী মন। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা তার স্বভাব নয়। কোনো অন্যায় দেখলেই তিনি সরাসরি প্রতিবাদ করেন। একদিন হাঁটার সময় দেখলাম, ফুটপাতে একজন গাছের চারা তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। রিয়াজ ভাই শান্ত গলায় বললেন,”ভাই, এটা আমাদের শহরের শোভা। আপনার বাড়ির সৌন্দর্যের জন্য শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।”
কথাটার এমন মাধুর্য ছিল যে লোকটি বিনা বাক্য ব্যয়ে চারাটি রেখে দিল।আমার কাছে রিয়াদ ভাই এক ভরসার নাম। তার সঙ্গ শুধু হাঁটার জন্য নয়, জীবনের পথচলার সাহচর্যও দেয়। প্রতিদিন সকাল বেলা তার সাথে দেখা হলে মনে হয়, জীবনটা একটু সুন্দর হলো।
এই শহরের অনেক মানুষ হয়তো জানেই না, একজন রিয়াদ তাদের আশেপাশেই আছেন, যিনি নীরবে প্রতিদিন শহরটাকে একটু সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করছেন। আর আমি ভাগ্যবান, প্রতিদিন এই মানুষটার পাশে হাঁটার সুযোগ পাই।