পৃথিবীর সঙ্গে বড় আকারের কোনো গ্রহাণুর সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকাতে নতুন একটি প্রতিরক্ষা কৌশলের প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের গবেষকেরা। তাঁদের মতে, যদি খুব অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীমুখী একটি বিশাল গ্রহাণুর হুমকি তৈরি হয়, তাহলে গ্রহাণুর অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক সংঘর্ষ ঘটিয়ে সেটির গতিপথ পরিবর্তন করা বা ভেঙে ফেলা সম্ভব হতে পারে।
গবেষকদের ভাষ্য, বর্তমানে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। তবে বিশাল আকারের গ্রহাণুর ক্ষেত্রে সময় কম থাকলে প্রচলিত পদ্ধতি পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। সে কারণে জরুরি পরিস্থিতির জন্য বিকল্প সমাধান হিসেবে পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।
গবেষণায় কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, একটি মহাকাশযান প্রথমে গ্রহাণুর ভেতরে নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত প্রবেশের পথ তৈরি করবে। এরপর সেখানে বিস্ফোরক স্থাপন করে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে শক্তি সরাসরি গ্রহাণুর অভ্যন্তরে কাজ করবে, যা এর গতিপথ পরিবর্তনে বেশি কার্যকর হতে পারে।
গবেষণার ফলাফলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বিস্ফোরণের গভীরতা ও শক্তির মাত্রা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা গেলে বড় আকারের গ্রহাণুকেও পৃথিবীর জন্য ঝুঁকিমুক্ত পথে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পৃথিবীর নিকটবর্তী সব গ্রহাণু এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে অল্প সময়ের নোটিশে কোনো মহাজাগতিক হুমকি দেখা দিলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
তবে গবেষণাটি এখনো তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও কম্পিউটার সিমুলেশনের পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তবে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের আগে আন্তর্জাতিক নীতিমালা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত নানা বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
ইতি/
