চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৪ আগস্টের ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
নিহত শ্রমিকের নাম ইদ্রিস আলী (৫০)। তিনি জামালপুরের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার দিন অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই ইদ্রিস আলী নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট সকালে ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে পুরোনো একটি জাহাজের ট্যাংকে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন কয়েকজন শ্রমিক। পরে একে একে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ওই ঘটনায় নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইদ্রিস আলীর মৃত্যুর পর প্রাণহানির সংখ্যা ১০-এ পৌঁছেছে। ঘটনাটির প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হলেও পরবর্তী সময়ে তা হালনাগাদ হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
প্রাথমিক তদন্তে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ বিষাক্ত গ্যাসের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় বাতাসে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা জাহাজের ট্যাংকসহ বিভিন্ন অংশ থেকে বাতাস, মাটি ও রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময়ের সঙ্গে কয়েক দিন পরের পরিস্থিতির পার্থক্যের কারণে তখন গ্যাসের উপস্থিতি না পাওয়ার বিষয়টি দিয়ে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাই অক্ষত ট্যাংকসহ জাহাজের বিভিন্ন অংশ আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।
তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে।
ইতি/
