Tuesday, June 23, 2026

জেল হত্যা দিবসে চার নেতার স্মরণে জহুর – নাহার সাংস্কৃতিক সংসদের দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। জেলহত্যা দিবস বাঙালি জাতির জীবনে এক কলঙ্কময় দিন। শোকাবহ জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে সারাদেশে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।চট্টগ্রামে জহুর নাহার কালচারেক কাউন্সিলের উদ্যোগে নগরীর শাহ আমানত দরগাহতে এক দোয়া মাহফিল অনুস্টিত হয়।উক্ত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত আরমান হোসেন।সার্বিক তত্তাবধানে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য জহুর আহমেদ চৌধুরীর কনিষ্ঠ কন্যা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবিকা জেরিন রোজি,জহুর নাহার কালচারেল কাউন্সিলের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট আইনান জুহায়ের সহ অন্যান্যরা।উক্ত দোয়া মাহফিলে মোনাজাত করেন মাওলানা মোহাম্মদ তবুরক।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার ধারাবাহিকতায় আড়াই মাসের মাথায় জাতীয় এই চার নেতাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে ঘাতকরা। কারাগারের মতো কঠোর নিরাপত্তা প্রকোষ্ঠে এ ধরনের নারকীয় হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।জাতীয় চার নেতার আত্মত্যাগ বাঙালি জাতি চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির পিতাকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যার ধারাবাহিকতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জাতীয় চার নেতার জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধী পরাজিত শক্তি ও দেশ বিরোধী চক্র বাংলার মাটি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা।বিশিষ্ট
রাজনিতীবিদ ও সমাজসেবিকা জহুর আহমেদ চৌধুরীর কনিষ্ঠ কন্যা জেরিন রোজি বলেন ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। জাতীয় জীবনে এক শোকাবহ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান বন্দি অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন।তিনি আরো বলেন মুক্তিযুদ্ধে আগরতলায় অবস্থান নিয়ে আমার পিতা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী মুজিব নগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গোটা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই তিনি আগরতলা গিয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের সংবাদ বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেন। তিনি এই নির্মন হত্যাকান্ডের আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন তা না হলে স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের হাত থেকে তিনিও রেহায় পেতেন না।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত