সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চুক্তিটিকে আপাতত সরাসরি ইরানবিরোধী উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান।
৭ আগস্ট মক্কায় চুক্তিতে সই করে তিন দেশ। এতে কোনো একটি দেশের ওপর বাইরের পক্ষের সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন দেশ জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
ইরান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য ও নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভরতার কথা বলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির সময়টি তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার মধ্যে নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হয়েছে।
তবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের বিদ্যমান সম্পর্ক বিবেচনায় এখনই এটিকে ইরানবিরোধী সামরিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক প্রভাবের চেয়ে ভবিষ্যতে এটি কীভাবে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ নেয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তেহরানের জন্য বড় প্রশ্ন হলো—নতুন এই জোট ভবিষ্যতে ইরান বা দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে কি না। আবার দীর্ঘমেয়াদে এটি যদি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে না গিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে ইরানের সঙ্গে এর সম্পর্কের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের এই চুক্তিকে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
ইতি/
