বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ভিসা নীতি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত। একই সময়ে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও একাধিক অঙ্গরাজ্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের নতুন ভিসা নীতিটি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে তার এক দিন আগে সোমবার বোস্টনের ফেডারেল আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলর চতুর্থ নীতিটির বাস্তবায়ন স্থগিতের আদেশ দেন।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য অবস্থানের মেয়াদ ২৪০ দিন নির্ধারণ এবং বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে আরও ২৪০ দিন থাকার সুযোগ রাখার প্রস্তাব ছিল।
মার্কিন শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের জোট আদালতে আবেদন করার পর এই স্থগিতাদেশ আসে। বিচারক সেলর তাঁর আদেশে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নতুন নিয়ম উচ্চশিক্ষা খাত ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে প্রশাসন যে যুক্তি দিয়েছে, তা নীতিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এফ-১ ভিসাধারী প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রায় ৫ লাখ জে-১ ভিসাধারী এর প্রভাবের মধ্যে পড়তেন।
‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও আইনি চ্যালেঞ্জ
এদিকে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক চার্জ’ নির্ধারণের নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়েও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবিত নীতিতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি কিছু সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের বিষয়ও মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে।
এই নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়সহ ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি মামলা করেছে। ছয়টি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলায় প্রস্তাবিত নিয়মের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার মৌলিক কাঠামো নির্ধারণের ক্ষমতা মার্কিন কংগ্রেসের। প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে নিজস্ব আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে।
তাদের আরও দাবি, বৈধ সরকারি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা নেওয়ার কারণে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ডের আবেদন ঝুঁকির মুখে পড়া উচিত নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা-সংক্রান্ত নতুন নিয়ম স্থগিতের এই আদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আদালতীয় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতি/
