মাদক পাচার, অনলাইনভিত্তিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন মামলায় চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি কারাগারে বর্তমানে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৩০ জন বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। অন্য ১৬৮ জন এখনো বিচারাধীন এবং হাজতি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারের মধ্যে আটটিতে এসব বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে মিয়ানমারের নাগরিকদের একটি বড় অংশ মাদকসংক্রান্ত মামলায় বন্দি।
খুলশীতে ৬৩ বিদেশি আটকের ঘটনা
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করে পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫, পাকিস্তানের ২১, চীনের পাঁচ এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, ভবনটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সন্দেহ রয়েছে। তবে এসব কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট ধরন এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। জব্দ করা ডিভাইসের তথ্যও বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তারা কীভাবে এবং কোন ধরনের ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারেও বিদেশিদের বিরুদ্ধে তদন্ত
এর আগে কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের একটি দলকে ঘিরে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে। ৩ সেপ্টেম্বর একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রামের ৬৩ বিদেশি নাগরিকের ঘটনার সঙ্গে কক্সবাজারের ঘটনাটির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
মাদক মামলাতেও বিদেশি নাগরিক
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলার ঘটনাও রয়েছে। কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দি বিদেশিদের একটি অংশ মাদক মামলায় আটক রয়েছেন। বিশেষ করে মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে মাদক মামলার আসামির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের কারাগারগুলোতে বিদেশি বন্দির সংখ্যা, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে একাধিক বিদেশি নাগরিক আটকের ঘটনায় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ, অবস্থান এবং স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। ৬৩ বিদেশির ঘটনায় স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে বাসা ভাড়া নেওয়া ও পাসপোর্ট সংরক্ষণের বিষয়েও তদন্তকারীরা তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইতি/
