, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 63%

চীনের ক্রেতাদের সামনে সারা বছর বাংলাদেশি পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর কুনমিংয়ে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য স্থায়ী একটি কেন্দ্র এবং গুদাম সুবিধা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের উদ্যোগে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) এসব সুবিধা বিনা মূল্যে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কুনমিংয়ের একটি বিপণিবিতানে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের প্রদর্শনকেন্দ্রের পাশাপাশি একই আয়তনের একটি গুদাম বরাদ্দ থাকবে। এর মাধ্যমে চীনের বাজারে সারা বছর বাংলাদেশের পণ্য প্রদর্শন ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে চুক্তির খসড়াও পাঠানো হয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই কেন্দ্রটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

এই উদ্যোগের সূত্রপাত গত বছরের মে মাসে। সে সময় ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। ইপিবির সঙ্গে বৈঠকে তারা বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য বিনা মূল্যে নির্দিষ্ট স্থান এবং গুদাম দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

পরে গত বছরের ডিসেম্বরে ইউনান প্রদেশের টংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত একটি ফল উৎসবের সময় এ বিষয়ে ইপিবি ও ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়। ওই উৎসবে বাংলাদেশের নয়জন ফল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক অংশ নেন।

ইপিবি জানিয়েছে, কুনমিংয়ের প্রদর্শনকেন্দ্রে চীনা বাজারে চাহিদাসম্পন্ন পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে চীনের নির্ধারিত মান ও কমপ্লায়েন্সের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। এখনো প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট পণ্যের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি।

এ উদ্যোগের আওতায় শুধু সরাসরি পণ্য প্রদর্শন নয়, ইউনান প্রদেশের নির্ধারিত অনলাইন কমোডিটি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সুযোগও পাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই চীনা ক্রেতাদের কাছে পণ্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাজা ও দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের দ্রুত শুল্ক খালাসের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলমের মতে, কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি জানান, এর আগে চীনে সাতটি স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম স্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হলেও আপাতত একটি স্থান পাওয়া গেছে। এটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে আরও কেন্দ্র নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

ইপিবির কর্মকর্তারা জানান, গত জুনে সংস্থাটির একটি উচ্চপর্যায়ের দল কুনমিংয়ে নির্ধারিত প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম পরিদর্শন করেছে। যে বিপণিবিতানে কেন্দ্রটি স্থাপনের কথা রয়েছে, সেখানে চীনের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের যাতায়াত রয়েছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আমদানির আধিপত্য রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাবে, দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ২৯৬ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ চীন থেকে প্রায় ২ হাজার ২১৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ৮২ কোটি ডলার।

বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজারে শুল্কসুবিধা থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। ২০২০ সালে চীন বাংলাদেশি পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা চালু করে। পরে ২০২৪ সালে সুবিধাটি প্রায় সব পণ্যে সম্প্রসারিত করা হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, কুনমিংয়ের এই প্রদর্শনকেন্দ্রকে কাজে লাগিয়ে চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে কোন কোন পণ্য সেখানে প্রদর্শন করা হবে, তা চীনা বাজারের চাহিদা ও সংশ্লিষ্ট কমপ্লায়েন্স বিবেচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত