, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 59%

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ: সেপ্টেম্বরে ১৬ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাসটিতে জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৩০ জনের। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৬৬। এ সময়ে মারা গেছেন ২১ জন। অর্থাৎ বছরের মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি এবং মোট মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে সেপ্টেম্বরে।

আগস্টে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০২। এক মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ২ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে মৃত্যুও ২ থেকে বেড়ে ১৬ জন হয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায়ও চলতি বছরের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ৯৩৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল চারজনের।

জুনের পর দ্রুত বাড়ে সংক্রমণ

বছরের প্রথম কয়েক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও জুন থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। জানুয়ারিতে ৬৮, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭, জুনে ১২২, জুলাইয়ে ৫৩৬ এবং আগস্টে ১ হাজার ২০২ জন আক্রান্ত হন। সেপ্টেম্বরে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৩০।

ফলে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট আক্রান্তের প্রায় ৫৪ শতাংশই শনাক্ত হয়েছেন শুধু সেপ্টেম্বর মাসে।

নারী ও শিশুদের মৃত্যুর হার বেশি

বছরজুড়ে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের সংখ্যা বেশি। মোট আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৬৬ জনের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ১৯৩, নারী ১ হাজার ২৭৮ এবং শিশু ৯৯৫ জন।

অন্যদিকে ২১ মৃত্যুর মধ্যে নারী ১১ জন, শিশু ছয়জন এবং পুরুষ চারজন।

উপজেলায় সীতাকুণ্ডে আক্রান্ত বেশি

চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯২০ জন। উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে সীতাকুণ্ডে—৫৬২ জন।

এরপর কর্ণফুলীতে ২৬৭, রাঙ্গুনিয়ায় ১৪৫, বাঁশখালীতে ১৪২, সাতকানিয়ায় ১০৯, আনোয়ারায় ১০৭, রাউজানে ৯৩, পটিয়ায় ৮৮, হাটহাজারীতে ৭৬, মীরসরাইয়ে ৭৪, বোয়ালখালীতে ৭১, চন্দনাইশে ৬৫, লোহাগাড়ায় ৬১, ফটিকছড়িতে ৩৭ এবং সন্দ্বীপে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিতে বাড়ছে ঝুঁকি

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমানের ভাষ্য, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বর হলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেই প্রত্যেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি, সতর্কতামূলক উপসর্গ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডে দেশব্যাপী আক্রান্ত ও মৃত্যুর নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত