, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 65%

ভিসি ইস্যুতে ৯ দিন ধরে অচল চুয়েট

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে টানা নবম দিনের মতো অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করেন। তাদের দাবি, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল করে দ্রুত চলমান সংকটের সমাধান করতে হবে।

৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তন

চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম গত ২৭ জুলাই উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রায় ৫৬ দিন পর, ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করলে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যুক্ত হন।

নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে আন্দোলনের কারণে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্যাম্পাসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান। তিনি সংকট সমাধানে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কথাও জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

উপাচার্য পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। মূল প্রতিবেদনে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ ও বিভিন্ন পক্ষের চাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি; সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও এ বিষয়ে ভিন্ন।

চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ আন্দোলনের বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, সাবেক উপাচার্যের সময়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার যাকে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে, তাকে সহযোগিতা করাই শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব।

অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, সাবেক উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা হয়নি এবং তাকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

দ্রুত সমাধান চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হোক।

চুয়েটের চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে আছে।

অন্যদিকে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের বক্তব্য, সরকার সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করে ক্যাম্পাসে গিয়ে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত