নিজের সহধর্মিণী সুমি আক্তার ৪৫তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী এম এ তাহের। একই সঙ্গে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সুমিকে নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় মেধাবীদের মূল্যায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের।
বিসিএস গেজেট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এম এ তাহেরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর সহধর্মিণী সুমি আক্তার মোট পাঁচটি বিসিএসে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ৪১তম, ৪৩তম ও ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে ৪৫তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে ১১তম মেধাক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। কিন্তু প্রকাশিত গেজেট থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্বামী।
এ ছাড়া ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে ৬৭তম মেধাক্রমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন সুমি। তবে ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ পড়ার ঘটনার পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে ৪৬তম বিসিএসের গেজেট থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এম এ তাহের।
সুমির শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিষয়ে বিএসসি অনার্সে ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৮৮ এবং মাস্টার্সে ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৯৯ সিজিপিএ অর্জন করেছেন তিনি।
এম এ তাহেরের অভিযোগ, সুমির চেয়ে কম সিজিপিএ নিয়েও অনেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর স্ত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তাঁকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিসিএসের প্রস্তুতির জন্য স্ত্রীর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কথাও তুলে ধরেন এম এ তাহের। তিনি জানান, পাঁচটি বিসিএসে অংশ নিতে সুমি চট্টগ্রামের চকবাজারের বিভিন্ন কোচিং সেন্টার কনফিডেন্স, উত্তরণ, হেল্পলাইন ও ক্যারিয়ার এইডে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। বিয়ের পরও সংসারে সময় দেওয়ার পরিবর্তে বিসিএস প্রস্তুতির জন্য হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার অংশ হিসেবে দুবার ঢাকায় গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেন সুমি। একজন বেকার শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক বিসিএসে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রস্তুতি, শারীরিক পরিশ্রম ও আর্থিক ব্যয় বহন করা কতটা কঠিন, তা পরীক্ষার্থীরাই ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
• গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পরও বিসিএসের পরীক্ষা দিয়েছেন সুমি
স্ত্রীর বিসিএসের প্রস্তুতি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পেছনে শারীরিক কষ্টের কথাও তুলে ধরেন এম এ তাহের। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি তাঁদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। গর্ভাবস্থায় সুমি ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সন্তান জন্মের আগে ১৩ জানুয়ারি ভাইভায় অংশ নিতে ঢাকায় যেতে হয় তাঁকে। আর সন্তান জন্মের আট দিন পর, ৩ ফেব্রুয়ারি, ৪৫তম বিসিএসের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় যান তিনি। এ সময় আট দিন বয়সী সন্তানকে চট্টগ্রামে রেখে যেতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন এম এ তাহের।
• জুলাই আন্দোলন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন
নিজের বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের সময় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিও প্রশ্ন রাখেন এম এ তাহের।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলেন, সেই প্রত্যাশা কি পূরণ হয়েছে? তাঁর মতে, এমন ঘটনা মেধাবীদের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এম এ তাহের বলেন, কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত কাউকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে বাদ দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেই বক্তব্যের এক সপ্তাহ না যেতেই তাঁর স্ত্রীকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চান তিনি।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন রেখে এম এ তাহের বলেন, এটাই কি তাঁর প্রতিশ্রুত মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ? এটাই কি তাঁর ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’?
বক্তব্যের শেষাংশে এম এ তাহের বলেন, রিজিকের মালিক আল্লাহ। তিনি বিষয়টির বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, তাঁর বিশ্বাস, আল্লাহ সুমির জন্য আরও ভালো কিছু রেখেছেন এবং তিনি এর চেয়েও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সব পরিস্থিতিতে স্ত্রীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
