, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 55%

চট্টগ্রামে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ৩৮৯ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশপাশের জেলাগুলোতে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে সড়কে চলাচলকারী মানুষও এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। কোথাও অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট, আবার কোথাও রিকশা ছিনিয়ে নিতে গিয়ে চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরী ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন ১১ জেলায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মোট ৩৮৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতির ১১০টি এবং ছিনতাইয়ের ২৭৯টি মামলা।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় অপরাধের ধরন ও ভয়াবহতা সামনে এসেছে। গত ১০ অক্টোবর রাতে মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের শেখের তালুক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও সিসিটিভির সরঞ্জামসহ প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর পরদিন সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল আলম চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির পেছনের গ্রিল কেটে প্রবেশ করে ডাকাতেরা পরিবারের তিন নারীকে বেঁধে রাখে। পরে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়।

এদিকে, গত ১ অক্টোবর হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী এলাকায় আবদুর নুর তুষার নামে এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে হত্যার পর তাঁর রিকশা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজনের বিরুদ্ধে একাধিক অটোরিকশা লুটের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে গত ২৯ জুন আনোয়ারার বারশত এলাকায় একটি ডেইরি ফার্মে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মালিক ও কর্মচারীদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও পাঁচটি গরুসহ প্রায় ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়। এ ঘটনায়ও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে কাজ চলছে। অপরাধ দমনে থানা-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও অভিযান পরিচালনা করছে।

পরপর কয়েকটি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং পুলিশের পরিসংখ্যানে উঠে আসা মামলার সংখ্যা নগরী ও জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি এসব ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত