ফিরে দেখা স্মৃতিময় কথাঃআমার জেঠাতো ভাই জানে আলমের হাত ধরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে প্রথম দেখেছিলাম-মো. কামাল উদ্দিন। 

অনেক বছর আগের স্মৃতিময় কথা, সেই কথা লেখার আগে আমি আমার প্রয়াত জেঠাতো ভাই বি এন পির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা ও বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং জিয়াউর রহমানকতৃক প্রতিষ্ঠিত গ্রাম বোয়ালখালী চরণদ্বীপ ইউনিয়নের গ্রাম সরকার জানে আলমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। জানে আলম আমার আপন জেঠাতো বড় ভাই, তিনি আজ আমাদের কাছে নেই,গত চার বছর আগে তিনি আমাদের কাছ থেকে চিরকালের জন্য চলে গেছেন, এই চরম মুহূর্তে উনাকে খুবই প্রয়োজন ছিল, তিনি মৃত্যুর আগপর্যন্ত জিয়াউর রহমানের আদর্শে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বি এনপির রাজনীতি করে গেছেন।তিনি একজন পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন, তিনি আমাদের চরণদ্বীপ ইউসি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করেছেন, তার হাত ধরে আমি যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে প্রথম দেখেছিলাম, জিয়াউর রহমানের কাছে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল আমার বড় ভাই জানে আলমের বদৌলতে- আমি যে সমাজ ও রাজনৈতিক সচেতনতা শিখেছি তা একমাত্র তার কাছে থেকে। স্কুল জীবনের কথা- তখন রাজনীতি বুঝতাম না, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছিল, তখন আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন সিরাজুল ইসলাম- তিনিই পরে ১৯৭৯ সালে চেয়ারম্যান থেকে সরাসরি জিয়াউর রহমান সরকারের এম পি নির্বাচিত হয়েছিলেন, আমরা উনার চেয়ারম্যান নির্বাচনে শ্লোগান দেওয়া হতে শুরু করে নির্বাচনি প্রচার করতাম, “ইনিয়েবিনিয়ে শ্লোগান দেওয়ার মাষ্টার ছিলাম আমি,” সেই সিরাজ সাহেব যখন এমপি হয়ে গেলেন তখন আমার জেঠাতো ভাই জানে আলম তার সাথে রাজনীতি করতেন, জিয়াউর রহমান যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বি এন পি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সেই দলের মাধ্যমে ৭৯ সালে সংসদ নির্বাচন করেছেন, সেই নির্বাচনের জয়ি হওয়া আমাদের এম পি সিরাজ সাহেব রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বোয়ালখালীতে আনবেন- বোয়ালখালী হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান-

তা একটা বিশাল ব্যপার- তবে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সর্ব প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এই বোয়ালখালীতে, জিয়াউর রহমান তিনি ক্যান্টারমেন্ট থেকে পালিয়ে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্য বোয়ালখালীতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিতে কালুরঘাট সেতু ও বোয়ালখালীতে আশ্রয় নেওয়া এবং বোয়ালখালী থেকে গিয়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করার ইতিহাস জড়িয়ে আছে তাই, তিনি ১৯৭৯ সালে দলীয়ভাবে সরকার গঠন করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বোয়ালখালীতে আসার সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিক বাস্তবতা, সেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের বোয়ালখালীতে আসবে—— তাও আবার আমাদের এলাকায়, এমপি সিরাজুল ইসলাম সাহেবের বাড়ীর সংলগ্ন কধুরখীল চৌধুরী হাটের পশ্চিমে বাজারে পাশেই কৃষি জমিনের মাঠে- বিশাল আকারে আয়োজন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের বোয়ালখালীতে আসবে, কি একটা মজার ব্যপার, সব খানে প্রচার চলছে, জিয়াউর রহমানের আগমন নিয়ে সাঁজ সাঁজ রব- আমরা আকুল আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি, তিনি খাল খননসহ বহু ধরনের কৃষি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন, বিশেষ করে কর্ণফুলীনদীর তীরে ভেরিবাঁধ ও সুইস গেইট বানানোর সিদ্ধান্ত দেবেন, রাজনৈতিক নেতাদের সব কথা না বুঝলেও কিন্তু জিয়াউর রহমান কিছু একটা করবে তা বুঝতেছি, আমাদেরকে আগেভাগে আমার জেঠাতো ভাই জানে আলম জিয়াউর রহমান আসার আয়োজনে মিছিল নিয়ে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুুত রেখেছেন, আমরা জিয়াউর রহমানকে ফুলদেব এবং জিয়াউর রহমানের আগমন উপলক্ষে সুন্দর সুন্দর করে শ্লোগান দেব, আগেই বলেছি শ্লোগানেের অভ্যাশ আমার ছিল, তা আবার নতুন কি, হ্যা নতুন হলো জিয়াউর রহমানের নামে ইনিয়েবিনিয়ে শ্লোগান বেশি বেশি করে দেওয়া! যাক বাবা সকাল থেকে আমারা উপেক্ষায় আছি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আসবে, একটা রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি সামনা সামনি দেখবো, তখনতো জিয়াউর রহমানকে আমরা শুধু টেলিভিশনে দেখতাম- তবে তাকে দেখানো হতো, সংবাদের সময়, কিন্তু সমস্যা ছিলো তখন সবার ঘরে টেলিভিশন ছিলো না, হাতেগোনা কয়েকজনের পরিবারে টেলিভিশন ছিলো, আবার টেলিভিশন থাকলে কি হবে, তখনতো বিদ্যুৎ ছিলো না, আমরা টেলিভিশন দেখতাম বেটারীর সাহায্য নিয়ে, তা কম বেশি সবাই জানেন, সেই সময়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে কাছের দেখা তা রুপকথার কাহিনির মতো, যাক বাবা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমাদের স্বপ্নের রাষ্ট্র নায়ক জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে আমাদের চৌধুরী হাটে এসেছেন,

তাকে ফুলের অভ্যতনা জানিয়ে উপস্থিত নেতারা বরণ করলেন, কিন্তু জিয়াউর রহমানের গায়ে পরিধান ছিলো একটি গেঞ্জি, মাথায় ছিল ক্যাপ, চোখে কালো চশমা, একজন হিরো যেই ভাবে সাধারণ মানুষের সামনে আসেন, জিয়াউর রহমানও সেইদিন তখন আমাদের সামনে এসেছিলেন, স্টেজে সিরাজুল ইসলাম সাহেব এবং আরো অনেকে আছেন, আহমেদ খলিল খানও ছিলো, তখন সবাইকে মুখ চেনা চিনতাম, ভালমতো পরিচয় ছিল না, কারণ আমরা ছোট, সিরাজ সাহেব জ্বালাময়ী বক্তব্য দিচ্ছেন, আমরা হাততালি দিতে দিতে হাত লাল করে পেলি, সেই সময়ে আমার বড় ভাই জানে আলমের হাত ধরে আমি জিয়াউর রহমানের কাছে গেয়েছিলাম, আমি ফুল দিতে না পারলেও কিন্তু জিয়াউর রহমানের সাথে হাত মিলেয়েছিলাম, আমার সেই স্মৃতি আজো মনে পড়ে, সেই ধারাবাহিকতায় আমি বিএনপির রাজনীতি করেছি,তার দীর্ঘ ইতিহাস- জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আমি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির একজন সাধারণ কর্মি হিসেবে কাজ করেছি, তবে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলনে ছিলাম।তখন বিএনপির মহাসচিব ছিলেন কে এম ওবায়দুর রহমান, তিনি তখন প্রভারশালী নেতা-

উনার সাথে তখন রাজনৈতিক কারণে বেগম খালেদা জিয়ার মতবিরোধ হয়, তাতে তিনি বেগম খালেদা জিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায়। আমরাও বেগম খালেদা জিয়া থেকে পৃথক হয়ে ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে আলাদা রাজনীতি করেছি, তখন দুইটি গ্রুপ হয়- একটি বি এন পির “খালেদা এবং অন্যটি বি এনপির ওবায়েদ ” পরে আমি কে এম ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে ঘটিত জনতা দলের ছাত্র সাংগঠন’ “বাংলাদেশ ছাত্র দল” এর চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়ে ছিলাম। সভাপতি ছিলেন এস এম ফরিদ, এর আগে এম হাসেম রাজু সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তা নিয়ে আরকেদিন বিস্তারিত লিখবো- জিয়াউর রহমান আসার পর সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং আমাদের সবার দৃষ্টি তখন জিয়াউর রহমানের দিকে তিনি কখন বক্তব্য দেবেন কি কি বক্তব্য রাখবেন, আমাদের বোয়ালখালী জন্য তিনি কি কি উপহার হিসেবে প্রদান করবেন-সবার মুখে মুখে শুধু “জিয়া-জিয়া” শব্দ- আমাদের আশার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য জিয়াউর রহমান সাহেব বক্তব্য শুরু করেছেন, আমরা সবাই এক সাথে শ্লোগান দিচ্ছি, এক পর্যায়ে তিনি -বলা শুরু করলেন- তোমরা গরু —তোমারা ছাগল— তোমরা হাস— খুব শ্লো করে দমনিয়ে

 বিরতি দিয়ে তিনি গরু ছাগল হাস মুরগী বলেই যাচ্ছেন, আমরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছি- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদেরকে গরু ছাগল হাস মুরগী বানিয়ে কথা বলছেন কেন? তার উত্তর অন্য কেউ দেওয়ার আগেই জিয়াউর রহমান নিজেই নিঃস্বাস ছেড়ে বল্লেন – তোমরা চাষ কর!””সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি,জিয়াউর রহমানের মুখের দিকে, যাক তিনি যে আমাদেরকে গরু ছাগল বলেননি, তিনি বলেছেন চাষ করতে, তাতে দেশের উন্নয়ন হবে, বেকারত্ব দূর হবে, সব কিছু বিবেচনা করে তিনি কথা গুলো বলেছিলেন, সেই জিয়াউর রহমানের আগমন নিয়ে কিছু কথা আমার স্মৃতির আর্কাইব থেকে লিখলাম, এখন কথা হলো, জিয়াউর রহমান তখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসায় আমরা তাকে কাছে থেকে যতটুকু বুঝেছি তা আজকাল অনেকে বুঝবেনা, আমার জেঠাতো ভাই জানে আলমের রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে দীর্ঘ বছরের, জিয়াউর রহমান ৮১ সালে চট্টগ্রামে নিহত হওয়ার পর, যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে তখন ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা ও বিচারপতি আব্দুস সাত্তার বি এন পির থেকে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে ছিলেন, আমরা জানে আলমের নেতৃত্বে সাত্তারের পক্ষে কাজ করেছি, তখন দেশ এবং জাতির সঠিক ইতিহাস জানতাম না, সেই সময় আমরা ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে” তাবা বেলুন স্বাক্ষী আছে আর যাবনা নৌকার কাছে” শ্লোগান লিখে তাবা বেলুন টাঙিয়ে দিতাম, আরো শ্লোগান ছিলো ৭৪ দুর্ভিক্ষ ভুলিনি ভুল বনা- ইত্যাদি ইত্যাদি। কত যে মজার মজার কথা রয়েছে তা বলে শেষ করা যাবেনা।

তা বিশাল ইতিহাস, তবে সব চেয়ে স্মতিময় হলো আমরা ৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১০ ই ফালগুন কদলপুর আশারাফ শাহ মাজারের ওরশ শেষ করে আসার সময় দলবেঁধে সবাই পাহাড়তলী জিয়া নগরে জিয়াউর রহমানের কবর দেখতে গেয়েছিলাম, তখন কবর টি ছিল একটি গর্ত- আমরা পায়ে হেঁটে হেঁটে কবর দেখতে গিয়ে কবর জিয়ারত করে আবাও পায়ে হেঁটে চলে আসলাম, তখন প্রায় ৪০ কিলোমিটার হেঁটেছি,যার বিবরণ দিয়ে শেষ করা যাবেনা, ঐসময় জিয়াউর রহমানের কবর দেখতে যাওয়ার আগ্রহকে আরো জোরদার করেছিলেন আমার বড় ভাই জানে আলম, তিনি এক সময় জাসদ ছাত্র লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কিন্তু পরে জিয়াউর রহমানের বি এন পিতে আমাদের সিরাজুল ইসলাম সাহেব নেতৃত্বে দীর্ঘ বছর যাবত রাজনীতি করেছেন, সিরাজ সাহেব ৯১; সালে আবারও পুনরায় এম পি নির্বাচিত হওয়ার পিছন জানে আলমদের মতো নিবেদিত মানুষের ভুমিকা ছিল, আজ জানে আলম বঁচে থাকলে খুবই খুশি হতেন, তিনি সব সময় প্রগতিশীল রাজনীতির বিশ্বাস করতেন, বি এন পির দুর সময়ে কাজ করেছেন, আজ তার মতো নিবেদিত মানুষের প্রয়োজন, আমি হয়তো এখন বি এনপির রাজনীতির সাথে জড়িত নেই,

৯৪ সালের পর হতে জাতীয় রাজনীতি ছেড়েই দিয়েছি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন ও পুরো সময়টা লেখা লেখিতে অতিবাহিত করেছি। আমি আমার রাজনীতির ইতিহাস লিখবো-তবে হয়তো-আমার রাজনৈতিক ইতিহাস লিখতে গেলই এই কথা গুলো লিখতে হবে, আমি সাংবাদিকতা ও লেখা লেখিতে কোন ধরনের অসংগতি লেখা লিখেনি এবং লেখাতে আপোষও করিনি। আমি বিগত সময়ে পত্রিকায় ও টেলিভিশনে বিএন পির জাতীয় নেতাদেরকে প্রধান্যতা দিয়েছি, বিশেষ করে টেলিভিশনে আমাদের আব্দুল আল নোমান সাহেব,এরশাদ উল্লাহ সাহেবকে এবং আবু সুফিয়ান, মোস্তাক, শাহজাহান জুয়েল,গাজী সিরিজ সহ অসংখ্য নেতাকে বাংলা টিভিতে টকশোতে কথা বলার সুযোগ দিয়েছি, বিশেষ করে ঢাকায় বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ভাইকে সবচেয়ে বেশী সময় দিয়েছি, তবে অনেকে মনে করতে পারে আমি এখন বি এন পি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখে আজকের এই লেখা লিখতেছি, তা মনে করাটা ভুল হবে, আমি সব সময় সত্যি কথা লিখে থাকি, আগামীতেও লিখবো, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে যেমন লিখেছি, তেমনি শেখ হাসিনার দোষগুণ নিয়েও লিখেছি, শেখ হাসিনার সমালোচনা আমি সবচেয়ে বেশী করেছি।

আমি আমার জেঠাতো ভাই জানে আলমকে স্মরণ করে এই লেখাটি লিখলাম, আমি তার ভাই হিসেবে তাকে আজীবন স্মরণ করতে গেলেই জিয়াউর রহমানের আগমনসহ বি এন পির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার ইতিহাস লিখতে হবে। তবে, সত্যি বলতে, বিষয়টা একেবারেই তা নয়। আমি অতীতে যেমন বঙ্গবন্ধুর ওপর গবেষণা করেছি, তাকে নিয়ে লিখেছি, তেমনি শেখ হাসিনার সাফল্যগুলোও উল্লেখ করেছি। কিন্তু তার পাশাপাশি আমি শেখ হাসিনার সমালোচনা করে অসংখ্য লেখাও লিখেছি।আমার জীবনের প্রথম রাজনীতির মূল প্রেরণা ছিল জিয়াউর রহমানের আদর্শ- তখনতো ইতিহাস বুঝতাম না।

চট্টগ্রাম মহানগরে বাংলাদেশ ছাত্র দলের ( ওবায়েদ গ্রুপ) সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও, একসময় আমি জাতীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাই। এর কারণ ছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন ও বেকার আন্দোলনের প্রতি আমার গভীর সম্পৃক্ততা। এসব আন্দোলনের মাধ্যমে আমি চট্টগ্রামের মানুষের পক্ষে কথা বলেছি এবং তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। এর ফলে রাজনীতির মূলধারা থেকে সরে আসা স্বাভাবিক ছিল।সম্প্রতি, আমাকে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের চট্টগ্রামের সম্মেলন আয়োজনের জন্য আহ্বায়ক করা হয়েছিল। তিন মাস মেয়াদের আহ্বায়ক হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু যখন আমি সিদ্ধান্ত নিই যে আগাছা-অগাছা বাদ দিয়ে কাজ করব, তখন কেন্দ্রীয় সভাপতি সি আই পি হারুনুর রশিদ,তার সভাপতির

ক্ষমতা বলে আমাকে পদ থেকে সরিয়ে দেন এবং সেই সেলিম হোসেনকে সভাপতি ও রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরের কমিটি গঠন করা হয়। আমাকে বাদ দেওয়ার এই বিষয়টি এশিয়ান টেলিভিশনে নিয়মিত প্রচার করা হয়,তার বিরুদ্ধেও কলম ধরেছি, এতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ, আমি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি নাই এবং অতীতেও করিনি।

আমার লেখার লক্ষ্য কখনো রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন নয়। আমি সবসময়ই সত্যের পক্ষে থেকেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে যেমন মূল্যায়ন করেছি, তেমনি শেখ হাসিনার ভুলগুলোও তুলে ধরেছি। একইভাবে, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে শুরু করা আমার রাজনৈতিক পথচলাও আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গভীর অর্থবহ। রাজনীতির এই দীর্ঘ পথচলায় আমি কখনো তোষামোদ করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সত্যিকার অনুগামী, তাদের সাথেই আমার পথচলা। তবে আমার প্রথম রাজনীতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং জিয়াউর রহমানকে দেখে, তাতে জিয়াউর রহমানের প্রতি আমার আজীবন শ্রদ্ধা থাকবে-যেমনটা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছি, তেমনি বিএনপির সাথেও আমার অতীতের সম্পর্ক নিয়ে লিখেছি।

আজকের এই লেখার মাধ্যমে আবারও সকলকে জানাতে চাই—আমি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই লেখা লিখছি না। রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার পরও, বিগত সময়ে বিএনপি যখন একাধিকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল, তখন আমি একজন লেখক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে অনেক মন্ত্রী ও এমপির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি, কখনো কোনো অনৈতিক সুবিধা নেইনি। আমার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রামের উন্নয়ন এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা। এর বাইরে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না, আর কোনো ধরনের সুযোগ গ্রহণ করারও প্রয়োজন অনুভব করিনি।

এরপর আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেছে, কিন্তু তাতেও কেউ আমার দিকে আঙুল তুলে বলতে পারবে না যে আমি কোনো সুবিধা নিয়েছি। এমনকি একটিও সুপারিশ করিনি। আমি বিশ্বাস করি, একজন লেখক বা সাংবাদিকের মূল দায়িত্ব হলো সমাজের দুর্নীতি, অনৈতিকতা ও অসঙ্গতি তুলে ধরা, এবং সেই কারণেই আমি সব সময় স্বাধীনতার সাথে কথা বলেছি এবং লিখেছি।

আমি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ছয়জন মেয়রকে কাছ থেকে দেখেছি। তাদের সাথে বিভিন্ন সময়ে কাজের সুবাদে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব থাকলেও কখনো কোনো দিন সামান্যতম সুযোগও গ্রহণ করিনি। আর সেই কারণেই, আমি সাহসের সঙ্গে তাদের কাজের সমালোচনা করতে পেরেছি, যখনই তাদের কাজ চট্টগ্রামের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে। রাজনীতি আমার জন্য ছিল না, আমি সবসময় সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চেয়েছি, তাদের স্বার্থের কথা বলেছি।

ভবিষ্যতে বিএনপি যদি আবার ক্ষমতায় আসে, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তাদের কাছ থেকেও কোনো ধরনের অন্যায় সুবিধা না নিতে হয়। আমি চাই না যে কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে সুযোগ নিয়ে আমার সততা এবং আদর্শের সাথে আপস করতে হয়। চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে আমি কখনো আপস করিনি, আর ভবিষ্যতেও করবো না, ইনশাআল্লাহ। আমার লক্ষ্য সবসময় সত্যকে প্রকাশ করা এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করা। আমাদের অনেক সিনিয়র সাংবাদিক, যাদের আমি একসময় সম্মান করতাম, তারা এখন তোষামোদি ও চামচাদের তালিকায় “দালাল সাংবাদিক” হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জার বিষয়। একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার লেখনী, যা জাতির সামনে তাকে জীবিত রাখে। কিন্তু আজকের দিনে অনেক সাংবাদিক কেন তাদের কলম বন্ধ করে, ক্ষমতার ভয়ে, সত্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে? তারা কেন কলঙ্কিত হয়ে নিজের সম্মান হারাচ্ছে?

এখন সময় এসেছে সত্যের দরজা খুলে দেওয়ার, মিথ্যাচারের জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে জাতির সামনে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করার। সাহসের সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া সাংবাদিকের দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, একদিন সত্যের বিজয় হবেই।

এই লেখা শেষ নয়, আমি আরো লিখবো, ইনশাআল্লাহ। আমার কলম চলবে যতদিন আমি বেঁচে আছি, যতদিন চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বপ্ন আমার চোখে থাকবে। আমি সব সময় চেয়েছি মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে, উন্নয়নের পথে সমাজকে গড়ে তুলতে। আর এই লক্ষ্যেই আমার প্রতিটি লেখা, প্রতিটি পদক্ষেপ।ভবিষ্যতেও আমি একই নীতিতে অটল থাকবো, সত্যের পথে নিজের লেখনীকে সমর্পণ করে যাবো।

লেখকঃ সাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক ও মহাসচিব- চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।

[recent_tabs]