চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে এখনই ২৫–৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেল বা মনোরেল নির্মাণের প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) খসড়া ট্রাফিক ও পরিবহন মহাপরিকল্পনা।
২০২৫–২০৫০ মেয়াদের এই পরিকল্পনায় মেট্রোরেলের পরিবর্তে আধুনিক বাস ব্যবস্থা, বাস রুট পুনর্বিন্যাস এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৭০০টি আধুনিক বাস নামাতে ব্যয় হতে পারে আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা।
খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমান যাত্রীচাহিদা বিবেচনায় চট্টগ্রামে মেট্রোরেল অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নাও হতে পারে। পাশাপাশি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আগে থেকেই ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থাকায় মেট্রোরেল নির্মাণে কারিগরি জটিলতাও রয়েছে।
বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে বিদ্যমান বাস অপারেটরদের একীভূত করে কোম্পানিভিত্তিক পরিচালনা, নির্দিষ্ট বাস লেন, আধুনিক বাসস্টপ ও টার্মিনাল এবং স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া কালুরঘাট, শাহ আমানত সেতু, নিউমার্কেট, পতেঙ্গা ও কুলগাঁওয়ে নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণ এবং রেল ও নৌপথের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
তবে মেট্রোরেলের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। ২০৪০–২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যাত্রীচাহিদা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় মেট্রোরেল বা মনোরেল চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।
খসড়া মহাপরিকল্পনাটি বর্তমানে জনমত, আপত্তি ও পরামর্শের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। মতামত গ্রহণ শেষে এটি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
ইতি/
