চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় অনলাইন স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেপ্তারদের মধ্যে থাকা এক শিশুকে রিমান্ডের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসি প্রসিকিউশন (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের আদালতে পুলিশ ৬৩ বিদেশি নাগরিকের প্রত্যেকের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শিশুটিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়নি।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে। আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ মহসিনকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদনও করেছে পুলিশ। পাশাপাশি তার সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে মহসিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তাদের থাকার জন্য তিনি একটি আটতলা ভবন ভাড়া দিয়েছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় মহসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক দিন আগে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ওই কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে চালানটি ফেরত আসে।
ওই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরে পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পায় পুলিশ। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের মাধ্যমে অনলাইন স্ক্যামিংয়ে তাদের প্রকৃত ভূমিকা, সংশ্লিষ্টতা এবং বাংলাদেশি সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ইতি/
