, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 32° সে. | 💧 আদ্রতা 59%

শিশুদের পেটে ইয়াবা পাচার, চট্টগ্রামে নারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে ব্যবহারের অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-৭। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু দুটির পাকস্থলী থেকে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আটক নারীর নাম শারমিন আকতার ওরফে ইসমত আরা (৪০)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাটের তৈলার দ্বীপ ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। একই সময় সঙ্গে থাকা দুই শিশুকে হেফাজতে নেয় র‌্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশু দুটির পাকস্থলীতে ইয়াবা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাদের চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় পাকস্থলীতে ইয়াবা ট্যাবলেটসদৃশ বস্তু শনাক্ত হয়। চিকিৎসার পর মলত্যাগের মাধ্যমে প্যাকেটগুলো বের করা হয়। ৯ বছর বয়সী শিশুটির কাছ থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির কাছ থেকে ৬৬টি প্যাকেট পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৩৩টি প্যাকেটে ছিল ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা।

র‌্যাব জানিয়েছে, শিশু দুটিকে কক্সবাজারের উখিয়া এলাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে আনা হচ্ছিল। তাদের পাকস্থলীতে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগেও একই শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবার চালান চট্টগ্রামে নেওয়া হয়েছিল বলে র‌্যাবের কাছে তথ্য এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এভাবে পাকস্থলীতে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্যাকেট ফুটো হয়ে গেলে শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি হয়ে গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের বক্তব্যেও এ ধরনের মাদক পরিবহনের ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছিল। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ ঘটনায় আটক নারী ও উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত