, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 79%

জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে তৃতীয় দফার ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা পরিষদে প্রার্থীদের নিয়ে তৃতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রুদ্ধদ্বার এ ভোটে কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে গ্রিনস্প্যান ‘উৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন ৯টি। তাঁর বিপরীতে ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট পড়েছে ৫টি এবং একটি ভোটে কোনো মতামত দেওয়া হয়নি। গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বির্কেট পেয়েছেন ৮টি ‘উৎসাহিত’, ৬টি ‘নিরুৎসাহিত’ এবং একটি ‘মতামত নেই’ ভোট।

তবে এ ভোটাভুটির আনুষ্ঠানিক ফলাফল নিরাপত্তা পরিষদ প্রকাশ করেনি। ভোটের মাধ্যমে মূলত সদস্যদেশগুলোর প্রার্থীদের প্রতি সমর্থনের মাত্রা যাচাই করা হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ‘স্ট্র পোল’ গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ চলতি বছরের শেষে শেষ হওয়ার কথা। তাঁকে অনুসরণ করে জাতিসংঘের দশম মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে আটজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বির্কেট, সেনেগালের ম্যাকি স্যাল, উগান্ডার ওলারা ওতুনু, চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের ইভন এ-বাকি এবং মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা। প্রার্থীদের নাম ও মনোনয়ন-সংক্রান্ত তথ্য জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক তালিকাতেও রয়েছে।

এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারী প্রার্থীদের উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জাতিসংঘের ৮০ বছরের বেশি ইতিহাসে এখনো কোনো নারী মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেননি। তৃতীয় দফার ভোটেও নারী প্রার্থীরাই শীর্ষে রয়েছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ সদস্যের পরিষদে কোনো প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ইতিবাচক ভোট পেতে হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া—এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশ ভেটো দিলে প্রার্থীটি নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন না।

নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রার্থীর নাম সাধারণ পরিষদে পাঠানো হয়। এরপর সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিয়োগ করে। জাতিসংঘের বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার নথিতেও এই ধারাবাহিকতা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী ধাপগুলোতে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কতগুলো অনানুষ্ঠানিক ভোট লাগবে, তা আগে থেকে নির্দিষ্ট করা নেই। ফলে আগামী কয়েক দফার ভোটে প্রার্থীদের প্রতি সমর্থনের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত