চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোরদের দুটি গ্রুপের বিরোধের জেরে মো. হৃদয় (১৬) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তালতলা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত হৃদয় বাবার সঙ্গে ভ্যানে করে সবজি বিক্রিতে সহযোগিতা করত।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোরও রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ নামে স্থানীয় দুই কিশোর গ্রুপের বিরোধের জেরেই হৃদয়ের ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
যেভাবে হামলা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে হৃদয়কে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় একটি অটোরিকশা থামিয়ে তাকে নামিয়ে কয়েকজন হামলা চালায়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হৃদয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অস্ত্র হাতে কিশোরদের ভিডিও
ঘটনার তদন্তে পুলিশ স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। এর আগে কয়েকজন কিশোরকে ধারালো অস্ত্র হাতে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে দেখা যায় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক কিশোরদের একজনকে এমন একটি ভিডিওতে কিরিচ হাতে দেখা গিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি রক্তমাখা কিরিচ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
বিরোধের কারণ কী
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই কিশোর গ্রুপের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয়ক বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিশোর গ্রুপগুলোর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কথা এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে এসব বিষয়কে তদন্তাধীন অভিযোগ হিসেবেই দেখছে পুলিশ।
পরিবারের পাশে থাকার মানুষটি আর নেই
হৃদয় তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করত। ছেলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে।
ইতি/
